এভারেস্ট জয়ের পর আর ফেরা হল না, রানাঘাটের শিক্ষক সুব্রত ঘোষের মৃত্যুতে শোকের ছায়া

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। কিন্তু বিজয়ের মুকুট মাথায় নিয়ে আর ফেরা হলো না নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা, স্কুলশিক্ষক সুব্রত ঘোষের। এভারেস্ট সামিট করার পর নীচে নেমে আসার পথেই মৃত্যু হলো তাঁর। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের অদূরে হিলারি স্টেপের কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মরদেহ। সুব্রত ঘোষের মৃত্যুতে রানাঘাটে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্নোয়ি হরাইজন ট্রেক সংস্থা, যারা এই অভিযানের আয়োজন করেছিল, তাদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বোধরাজ ভান্ডারি সুব্রত ঘোষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুব্রত ঘোষ বাগদা কাপাসাটি মিলনবিথী হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং রানাঘাটের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিড়কিবাগান লেনের বাসিন্দা ছিলেন।
একই অভিযানে সুব্রত ঘোষের সঙ্গে ছিলেন রানাঘাটের আরেক পর্বতারোহী রুম্পা দাস। তিনিও সফলভাবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেছেন। তবে শৃঙ্গ জয় করে বেস ক্যাম্পে ফেরার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জানা গেছে, রুম্পা দাস বর্তমানে ক্যাম্প ৪-এ অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন এবং তিনি আপাতত স্থিতিশীল। এর আগে তিন বছর আগে রুম্পা এভারেস্ট জয়ের চেষ্টা করেও শারীরিক কারণে পারেননি। সুব্রতও এর আগে কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন।
অভিযান দলের সঙ্গে সুব্রত ঘোষের দিদিও ছিলেন, তবে তিনি বেস ক্যাম্পেই অবস্থান করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সুব্রত ঘোষ এবং রুম্পা দাস এভারেস্টের চূড়া জয় করেন। এই খবর রানাঘাটে পৌঁছানোর পর আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের জন্য শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায়।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতের দিকেই খবর আসে যে সুব্রত ঘোষ শৃঙ্গ জয় করে নীচে নেমে আসতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অক্সিজেনের অভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তিনি আর এগোতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ তার খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অবশেষে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর দুঃসংবাদ আসে। সুব্রতর মৃত্যুতে গোটা পর্বতারোহী মহলেও শোক নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, এই অভিযানের ঠিক আগের দিন, গত বুধবার, ফিলিপিন্সের ৪৫ বছর বয়সী পর্বতারোহী ফিলিপ সান্তিয়াগোরও এভারেস্ট অভিযানে মৃত্যু হয়। পরপর পর্বতারোহীদের মৃত্যু এভারেস্টের কঠিন আরোহণের বিপদকেই ফের একবার সামনে আনল। সুব্রত ঘোষের মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। তার অকাল মৃত্যুতে রানাঘাটের ক্রীড়া ও শিক্ষা মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।