কাশ্মীরে গেলেই ‘প্রমোশন’! নিরীহ মানুষ মেরে কত টাকা বেতন পায় জঙ্গিরা? জেনেনিন

নিরীহ মানুষ মেরে জঙ্গিরা কত টাকা বেতন পায় – এই প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলির আয়ের মূল উৎস হলো অনুদান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, কখনো চাপের মুখে পড়ে আবার কখনো বিশেষ বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক স্বার্থে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল অঙ্কের অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে জঙ্গি সংগঠনগুলো প্রায় ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পেয়েছে।

তবে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তারা একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে, তেমনই তাদের বড় নির্ভরতা পাকিস্তানের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর আর্থিক সহায়তার উপর। কার্যত আইএসআই-এর টাকাতেই পাকিস্তানি জঙ্গিদের ‘সংসার’ চলে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘বিজনেস টুডে’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান প্রতি বছর দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি ও জিহাদি গোষ্ঠীর জন্য প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয় করে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মঘাতী হামলাকারী তৈরি করা, অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা এমনকি জঙ্গিদের মাসিক বেতন দেওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু এত টাকা হাতে আসার পরও জঙ্গি সংগঠনগুলোর অর্থের খিদে মেটে না। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি, বন্দুক এবং বোমা তৈরির সামগ্রী কেনা, অপারেশনের খরচ চালানো – সব মিলিয়ে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে তারা কালোবাজারি এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত থাকে। মাদক পাচার থেকে প্রাপ্ত অর্থ জঙ্গি নেটওয়ার্কের একটি বড় আর্থিক উৎস।

পাকিস্তানি জঙ্গিদের বেতন কাঠামো সংগঠনভেদে ভিন্ন হলেও তাদের সবার উদ্দেশ্য প্রায় এক – ভারতের ক্ষতিসাধন করা। বিজনেস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা নিম্ন সারির জঙ্গি, অর্থাৎ মূলত গুলি চালানো বা বোমা ফেলার মতো কাজ করে, তাদের মাসিক গড় বেতন পাকিস্তানি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। অন্যদিকে, যারা কমান্ডার স্তরের, অর্থাৎ সন্ত্রাসী অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি ও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে, তাদের মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে যারা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, সেইসব পাকিস্তানি জঙ্গিদের বেতন তাদের দেশের সমতুল্য জঙ্গিদের চেয়ে সামান্য বেশি হয়, প্রায় মাসিক ২০ হাজার পাকিস্তানি টাকা। এছাড়াও, নিহত জঙ্গিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা করে ভাতা দেওয়ারও রেওয়াজ আছে।

এই প্রতিবেদনগুলো থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক অনুদান এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের পাশাপাশি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলোর টিকে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ। এই আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারলেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।