রিঙ্কু-পুত্রের মৃত্যু ঘিরে রহস্য! প্রেমিকার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি বান্ধবীর, তদন্তে পুলিশি

আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের আগের পক্ষের ছেলে প্রীতম ওরফে সৃঞ্জয়। বিয়ের মাসখানেকের মধ্যেই সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন রিঙ্কু মজুমদার। দিলীপ ঘোষও ‘পুত্রশোকে’র কথা প্রকাশ করেছেন। এই আবহে এবার প্রয়াত প্রীতমের ব্যক্তিগত জীবন এবং মৃত্যু সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন রিঙ্কু মজুমদারের বান্ধবী ঝুমা ঘোষ, যা ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। প্রীতমের মৃত্যুর পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রথম মুখ খুলেছিলেন তিনি, এবার একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।
মা রিঙ্কু মজুমদারের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রীতমের মৃত্যুর সঙ্গে এর যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে, সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ঝুমা ঘোষ। তিনি বলেন, প্রীতম নিজেই তার মায়ের দ্বিতীয় বিয়েতে আনন্দ প্রকাশ করেছিল। রিঙ্কু কখনোই ছেলেকে অন্ধকারে রেখে কিছু করেননি। তার মতে, বিয়ে এবং ছেলের মৃত্যু দুটোই হঠাৎ ঘটে যাওয়ায় এই ধরনের কথা উঠছে, প্রীতম বেঁচে থাকলে এমন জল্পনা তৈরি হতো না।
এর পরেই ঝুমা ঘোষ প্রীতমের প্রেমিকাকে নিয়ে মুখ খোলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, বিগত প্রায় দু’বছর ধরে প্রীতম মেয়েটির সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। তবে শেষ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না এবং গণ্ডগোল চলছিল। ঝুমার অভিযোগ, মেয়েটি প্রীতমের উপর চরম ‘মানসিক অত্যাচার’ চালাচ্ছিল। মানসিক অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে প্রীতম নিজেই নাকি মেয়েটিকে তার ফ্ল্যাটে আসতে স্পষ্ট বারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু মেয়েটি সেই কথা শুনছিল না। এরপর প্রীতম তার মা রিঙ্কু মজুমদারকে এবং পরে দিলীপ ঘোষকেও বিষয়টি জানিয়ে মেয়েটিকে ফ্ল্যাটে আসতে বারণ করার অনুরোধ করে।
ঝুমার দাবি, রিঙ্কু মজুমদার ছেলের কথা মতো মেয়েটিকে ফ্ল্যাটে যেতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন এবং এর পর মেয়েটি কিছুদিন আসেনি। কিন্তু সবচেয়ে রহস্যজনক হলো, প্রীতমের মৃত্যুর আগের দিন রাতে কীভাবে মেয়েটি বারণ করা সত্ত্বেও তার ফ্ল্যাটে এলো? এমনকি মেয়েটির সঙ্গে আরও একটি ছেলে বন্ধুও এসেছিল দাবি করে ঝুমা প্রশ্ন তোলেন কেন সেই ছেলেটিও সেখানে গিয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা এই বিষয়ে পুলিশের কাছে আবেদন জানাবেন যাতে পুলিশ তদন্ত করে দেখে কেন মৃত্যুর আগের রাতে বারণ করা সত্ত্বেও মেয়েটি প্রীতমের ফ্ল্যাটে গিয়েছিল এবং তার সঙ্গে থাকা ছেলে বন্ধুটির পরিচয় কী।
ঝুমা ঘোষ আরও জানান যে, নিমতলা ঘাট থেকে দিলীপ ঘোষের বাড়ি ফেরার পরেই প্রীতমের প্রেমিকা ক্রমাগত ফোন করতে শুরু করে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রীতমের ল্যাপটপ নিতে চায়। ঝুমার দাবি, তারা অন্য সূত্রে জানতে পারেন যে মেয়েটি তার বাবাকে নিয়ে ল্যাপটপ নিতে আসছে। এটা জানার পর রিঙ্কু নাকি মেয়েটিকে ফোন করে দরজা খুলতে বারণ করেন এবং বলেন যে ল্যাপটপ এখন নেওয়া যাবে না, বাকি কথা পরে হবে। কিন্তু মেয়েটি নাকি জেদ ধরে যে তার ল্যাপটপটি ভীষণ দরকার।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ঝুমা বলেন যে, মেয়েটি নাকি দাবি করেছিল নিউ টাউন থানার আইসি তাকে ফোন করে বলেছেন ল্যাপটপটি বের করে নিতে কারণ তার অফিস আছে। ঝুমা এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, পুলিশ নিজে কেন ওই মহিলাকে এমন কথা বলবে? এবং কেনই বা মেয়েটি সেদিন রাতে বারবার ল্যাপটপ নিয়ে চলে যেতে চাইছিল, এই প্রশ্নগুলি অত্যন্ত রহস্যজনক।
ঝুমা আরও জানান, নিউ টাউন থানার আইসি সত্যিই এমন কিছু বলেছিলেন কিনা, তা জানতে তারা এখনো পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি, তবে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত প্রীতমের ফ্ল্যাটে কাউকে ঢুকতে বারণ করা হয়েছে এবং ফ্ল্যাটের চাবিও কাউকে দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
প্রীতম মাদকাসক্ত ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নে ঝুমা জানান যে সে অল্প পরিমাণ নেশা করত। পাশাপাশি তার কিছু শারীরিক সমস্যাও ছিল। নিউরোলজিক্যাল সমস্যার জন্য ডাক্তার দেখানো হয়েছিল এবং সে নিয়মিত ওষুধ খেত। তবে তার শারীরিক অবস্থা এমন গুরুতর ছিল না যে হঠাৎ করে এভাবে মৃত্যু হবে, দাবি করেছেন ঝুমা ঘোষ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই প্রীতম ওরফে সৃঞ্জয়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ‘অ্যাকিউট হেমরেজিক প্যানক্রিয়াটাইটিস’ (Acute Hemorrhagic Pancreatitis) উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তার হৃদযন্ত্র, কিডনি ও লিভার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে আত্মহত্যা অথবা কোনও রকম ‘ফাউল প্লে’ বা অস্বাভাবিক কিছু করা হয়েছে এমন কোনো উল্লেখ নেই।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কোনো অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত না দিলেও, রিঙ্কু মজুমদারের বান্ধবী ঝুমা ঘোষের এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর দাবি প্রীতমের মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা এ বিষয়গুলি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন, যা ঘটনার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।