ভারত-পাক তপ্ত পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ধস, কয়েক মিনিটেই ডুবলো ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ল শেয়ার বাজারে। শুক্রবার সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে বাজার খুলতেই সূচকে বড়সড় ধস নামে। সেনসেক্স এবং নিফটি, উভয় প্রধান সূচকই দিনের শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ব্যাপক বিক্রিবাটা দেখা যায়।

শুক্রবার সকাল ৯টা ২২ মিনিট নাগাদ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) প্রধান সূচক সেনসেক্স ৫১৪ পয়েন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ কমে ৭৯,৮২০ পয়েন্টে নেমে আসে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি সূচকও ১৬০ পয়েন্ট বা ০.৬৬ শতাংশ কমে ২৪,১১৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি

এই আকস্মিক পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার মূলধন উড়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএসই-র তথ্য অনুযায়ী, আগের দিনের ক্লোজিং মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৪১৮.৫০ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে এদিন ৪১৫.০১ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত সম্পদ প্রায় ৩.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা হ্রাস পাওয়ার সমতুল্য।

BSE-তে ১১৬টি শেয়ার ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্নে

বাজারের পতনের চিত্র ছিল ব্যাপক। এদিন বিএসই-তে মোট ২,৯৯০টি শেয়ারের মধ্যে ২,৫০৯টি শেয়ারের দর কমেছে। মাত্র ৪০০টি শেয়ারের দর বেড়েছে এবং ৮১টি শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। পতনের ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে, বিএসই-তে ১১৬টি শেয়ার তাদের ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ACC, AIA Engineering, Central Bank, Galaxy Surfactants, Jindal Saw, Vedant Fashions এবং Syngene International-সহ BSE 500 সূচকেরও বহু শেয়ার এক বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। যদিও, এর বিপরীতে মাত্র ১৫টি শেয়ার এদিন ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ ছুঁয়েছে।

MCX, IEX, Zomato-সহ একাধিক জনপ্রিয় শেয়ার ৫% পর্যন্ত পড়ল

একাধিক জনপ্রিয় শেয়ার এদিন উল্লেখযোগ্য পতনের সাক্ষী থেকেছে। MCX, Poly Medicure, EIH, Indian Hotels, Jyoti CNC, Grindwell Norton, Tata Teleservices (Maharashtra), Concord Biotech, JBM Auto এবং Anant Raj-এর মতো শেয়ারগুলির দর ৫.২৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে। ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম Zomato-র শেয়ারও প্রায় ৫% কমেছে।

Sensex-এ বড় পতনের কারণ

সেনসেক্স সূচকের এই বড় পতনের জন্য মূলত দায়ী ছিল বেশ কয়েকটি ভারী ওজনের শেয়ার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো HDFC Bank, ICICI Bank, Reliance Industries Ltd (RIL), PowerGrid, Infosys, Bharti Airtel, ITC, HUL, Kotak Mahindra Bank, TCS এবং Bajaj Finance। এই শেয়ারগুলির দর কমাতেই সেনসেক্স সূচক নিচে নেমে আসে।

NSE-র ১৭টির মধ্যে ১৪টি সূচক পড়েছে

এনএসই-তেও পতনের চিত্র একই ছিল। ১৭টি প্রধান সাব-ইনডেক্সের মধ্যে ১৪টিতেই পতন দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে, Nifty Financial Services, Nifty FMCG এবং Nifty Realty সূচকগুলিতে বড়সড় পতন নথিভুক্ত হয়েছে।

এফআইআই এবং ডিআইআই ডেটা

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারের সেশনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগত বিনিয়োগকারীরা (FII) নেট ভিত্তিতে ২,০০৭.৯৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল। অন্যদিকে, ঘরোয়া প্রতিষ্ঠানগত বিনিয়োগকারীরা (DII) ৫৯৬.২৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারের ছবিটা কিন্তু আলাদা

ভারতের শেয়ার বাজারে যখন পতনের ধারা অব্যাহত, তখন এশিয়ার অন্য বাজারগুলির চিত্র কিন্তু ভিন্ন। বৈশ্বিক শুল্ক চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হওয়ায় বেশিরভাগ এশীয় সূচক এদিন উপরের দিকে উঠেছে। জাপানের নিক্কেই (Nikkei) এবং আমেরিকার ডাও জোন্সের (Dow Jones) ফিউচার্স সূচক এক শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার AXS 200 এবং হংকং-এর হ্যাং সেং (Hang Seng) সূচকও কিছুটা ইতিবাচক ছিল। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI সূচক কিছুটা পড়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যে কতটা দ্রুত শেয়ার বাজারের মেজাজ পরিবর্তন করতে পারে, শুক্রবারের বাজার পতন তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বিনিয়োগকারীরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।