পহেলগাঁও হামলার আবহে দেশজুড়ে উত্তেজনা, এই পরিস্থিতিতে বিপাকে ‘করাচি বেকারি’

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলা এবং তার দু’ সপ্তাহের মধ্যে ভারতের প্রত্যাঘাত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে সারা দেশেই জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেম তুঙ্গে উঠেছে। এর মধ্যেই বিপাকে পড়েছে হায়দরাবাদের শতাব্দীপ্রাচীন এবং জনপ্রিয় মিষ্টি ও বেকারির দোকান ‘করাচি বেকারি’। দোকানের নাম পাকিস্তানের শহরের নামে হওয়ায় সম্প্রতি এই বেকারি ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন একাংশ জনতা। বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে এই বেকারির নাম পাল্টাতে হবে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং পাল্টা জবাবের ফলে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দেশবাসীর আবেগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই পরিস্থিতিতে হায়দরাবাদের বেগমপেটে অবস্থিত করাচি বেকারির মূল তথা গুরুত্বপূর্ণ আউটলেটের সামনে বিক্ষোভে জড়ো হন কিছু প্রতিবাদী জনতা। বিক্ষোভে শামিল প্রতিবাদীদের মূল দাবি ছিল, পাকিস্তানের কোনও শহরের নামে যে ব্যবসায়িক সংস্থার নামকরণ করা হয়েছে, ভারতের মাটিতে বিশেষ করে যখন দেশবাসীর আবেগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় আছে, তখন সেটা চলতে দেওয়া যায় না।
তবে বিক্ষোভকারীদের উষ্মা এবং দাবির বিপরীতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে করাচি বেকারির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, তাঁরা মননে ও আচরণে সম্পূর্ণ এবং আদ্যন্ত ভারতীয়। মালিকপক্ষের দাবি, তাঁদের শিকড় প্রোথিত ভারতেই। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা এবং দেশভাগের কয়েক বছর পর বেকারির নামকরণে ‘করাচি’ শব্দটি এসেছিল। বেকারির মালিকপক্ষের দাবি, “হায়দরাবাদে ১৯৫৩ সালে করাচি বেকারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খনচাঁদ রমনানি। তিনি দেশভাগের পর পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন।” বর্তমানে তাঁর নাতি এই দোকানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনও পরিস্থিতিতেই দোকানের নাম পাল্টাতে চান না।
এই পরিস্থিতিতে করাচি বেকারির মালিক কর্তৃপক্ষ তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে আমরা অনুরোধ করছি যাতে বেকারির নাম না পাল্টানোর ক্ষেত্রে আমরা তাঁদের পাশে পাই। অনুগ্রহ করে আমাদের পাশে থাকুন। আমরা ভারতীয় ব্র্যান্ড। কোনও পাকিস্তানি ব্র্যান্ড বা সংস্থা নই।”
বিতর্কিত প্রশ্ন এড়াতে এবং নিজেদের জাতীয়তাবাদ নির্দ্বিধায় প্রতিষ্ঠা করতে হায়দরাবাদ জুড়ে তাদের বিভিন্ন আউটলেটের সাইনবোর্ডের উপরে বড় করে ভারতের জাতীয় পতাকা স্থাপন করেছিলেন করাচি বেকার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই সময়ের তীব্র দেশপ্রেমের মুখে তাতেও বিক্ষোভ সম্পূর্ণ এড়ানো যায়নি। উল্লেখ্য, করাচি বেকারির নাম নিয়ে ভারতের মাটিতে বিক্ষোভ এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পরও বেঙ্গালুরু শহরে আমজনতার রোষের মুখে পড়ে জনপ্রিয় এই বেকারির কর্তৃপক্ষকে তাদের সাইনবোর্ডে থাকা ‘করাচি’ শব্দটি ঢেকে ফেলতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
ভারত-পাক উত্তেজনার এই আবহ স্পষ্টতই সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলছে এবং দীর্ঘদিনের একটি ব্যবসায়িক সংস্থার নামও সংবেদনশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মালিকপক্ষ নিজেদের ভারতীয় সত্তা প্রমাণের চেষ্টা করলেও জনগণের আবেগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।