জন্মের সঙ্গে দেশপ্রেমের উদযাপন, অপারেশন সিঁদুরের সময় জন্ম ডজন খানেক সিঁদুরের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর তার প্রত্যাঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে যে অভিযান চালিয়েছিল, তার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। দেশের এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনব উপায়ে নিজেদের দেশপ্রেম প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। বিহারের মুজফফরপুরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর দিনটিতে জন্ম নেওয়া কয়েক ডজন শিশুর পরিবার তাদের নবজাতকদের নাম রেখেছে ‘সিঁদুর’ বা এই সম্পর্কিত নাম, যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ এখন শুধু সোশাল মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমেই নয়, মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই অভিযান দেশবাসীকে গর্বিত করেছে। দেশপ্রেমের এই জোয়ারে ভিন্নভাবে গা ভাসিয়েছেন মুজফফরপুরের বেশ কিছু অভিভাবক। তাঁরা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর দিনটিতে জন্ম নেওয়া তাঁদের সন্তানদের নাম রেখেছেন এই অভিযানের নামে – ‘সিঁদুর’।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সেদিন তাঁদের ঘরে দুটি সুখ একসঙ্গে এসেছিল – একটি হল সন্তানের জন্ম, আর অন্যটি হল পাকিস্তানের উপর ভারতীয় সেনার সাফল্য। অনেক বাবা-মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা চান তাঁদের সন্তান বড় হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করুক।
কানহার বাসিন্দা হিমাংশু রাজ তাঁর মেয়ের নাম রেখেছেন ‘সিন্দুরি’। তিনি জানান, প্রতি বছর মেয়ের জন্মদিনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’কেও একইসাথে উদযাপন করবেন। তাঁর কথায়, “যেদিন সেনাবাহিনী শত্রুর উপর আক্রমণ করে দেশকে গর্বিত করে মাথা উঁচু করেছিল, সেদিনই আমাদের ঘরে কন্যারূপে সুখ এসেছিল। এই কাকতালীয় ঘটনাটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। এই নামটি কেবল পরিবারের জন্য গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠেনি, বরং এটি সমাজে আলোচনারও বিষয় হয়ে উঠেছে। আমরা প্রতি বছর অপারেশন সিঁদুর উদযাপন করব।”
অন্যদিকে, জাফরপুরের বাসিন্দা পবন সোনি তাঁর ছেলের নাম রেখেছেন ‘সিঁদুর’। তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের ছেলে তার নামের মাধ্যমেই ছোটবেলা থেকে দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা লাভ করুক। বড় হয়ে সে যেন অবশ্যই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করে দেশের সেবা করে। এটা আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন। ‘সিঁদুর’ কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি আবেগ, যা দেশের জন্য কিছু মহৎ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।”
মুজফফরপুরের কেজরিওয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সিদ্ধার্থ জানান, অপারেশন সিঁদুরের দিন হাসপাতালটিতে এক ডজনেরও বেশি শিশুর জন্ম হয়েছিল। তিনি নিশ্চিত করেন যে, অপারেশন সিঁদুর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ১২টি পরিবার তাদের নবজাতক শিশুদের নাম রেখেছে ‘সিঁদুর’। ডাঃ সিদ্ধার্থ বলেন, “কয়েক ডজন শিশুর বাবা-মা তাদের সন্তানদের নামকরণ করেছেন ‘সিঁদুর’, যে অভিযান পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস করেছিল। এই ‘সিঁদুর’ নামটি কেবল অভিযানের সাফল্যের প্রতীক হয়ে ওঠেনি, বরং এটি দেখিয়েছে মুজফফরপুরের মানুষের হৃদয়ে সেনাবাহিনী এবং দেশের প্রতি কতটা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। আগে মানুষ তাদের সন্তানদের নাম জনপ্রিয় অভিনেতা-নায়িকাদের নামে রাখত, কিন্তু এখন তারা তাদের দেশের সম্মানে এবং সেনাবাহিনীর বীরদের নামে নামকরণ করছে। এটি সমাজের একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।”
এই ধরনের নামকরণ একদিকে যেমন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখছে, তেমনই তা দেশের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটাচ্ছে এবং আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার একটি অভিনব প্রচেষ্টা।