লাহোরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয়, করাচিতে বিস্ফোরণের শব্দ, জানাল ভারত

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর পাকিস্তানের লাগাতার প্রতিক্রিয়া এবং হামলা প্রচেষ্টার আবহে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। বিদেশ মন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিস্ত্রি জানান, লাহোরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পাকিস্তান ভারতের একাধিক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করলেও তা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও জানানো হয় এবং পাকিস্তানের একাধিক মিথ্যা দাবি খণ্ডন করা হয়।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তান যে আতঙ্কিত, তা স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই লাহোর এবং করাচিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জানা গেছে, পাকিস্তানে ড্রোন হামলা হয়েছে, যার জেরে করাচি এবং লাহোর বিমানবন্দর জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিকাল ৪:৩০-এ বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিস্ত্রি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেনা আধিকারিক সোফিয়া কুরেশি এবং ব্যোমিকা সিং।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিক্রম মিস্ত্রি জানান যে, সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে লাহোরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রমাগত জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান ভারতের একাধিক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় বলেও জানানো হয়। এর মধ্যে ছিল অবন্তীপুরা, শ্রীনগর, জম্মু, পাঠানকোট, অমৃতসর, চণ্ডিগড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর।

তবে ভারতের অত্যাধুনিক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সব প্রচেষ্টা রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জোরালো ভাবে দাবি করা হয়। হামলার পর অমৃতসর থেকে পাকিস্তানের ছোড়া মিসাইলের খণ্ড বা টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানান বিক্রম মিস্ত্রি। এটি ভারতের সফল প্রতিরক্ষার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

পাকিস্তান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে যে একাধিক মিথ্যা দাবি ছড়াচ্ছে, সাংবাদিক সম্মেলনে তারও জবাব দেওয়া হয়। পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, ভারত বেছে বেছে তাদের ধর্মীয়স্থানে হামলা চালিয়েছে। এই দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিক্রম মিস্ত্রি। উল্টে তিনি জানান যে, পাকিস্তানের তরফেই জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চের একটি গুরুদ্বারায় গুলি চালানো হয়েছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে কোনও নদীর বাঁধকে নিশানা করা হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

বিক্রম মিস্ত্রি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী আস্তানা বা ঘাঁটির উপরই নিশানা করেছে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নয়। তিনি আবারও বলেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পাকিস্তান একাধিক মিথ্যা বক্তব্য ছড়াচ্ছে। পাকিস্তান যেভাবে সব সময় জঙ্গিদের মদত দিয়ে আসছে এবং সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দিচ্ছে, তার পরেও ভারত ধৈর্য ধরে সিন্ধু জল চুক্তি এত বছর ধরে চালিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন বিক্রম মিস্ত্রি। এটি ভারতের সংযমকেই তুলে ধরে। সব মিলিয়ে, সাংবাদিক সম্মেলন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ভারত তার অবস্থানে অনড় এবং পাকিস্তানের অপপ্রচার মোকাবিলায় সচেষ্ট।