বাইক চুরির পর মহিলার ব্যাগ ছিনতাই করতে গিয়েই দুষ্কৃতীকে ধরল সিভিক ভলান্টিয়ার

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের গুসকরা এলাকায় বুধবার দুপুরে যা ঘটল, তা হার মানাবে যেকোনও সিনেমার দৃশ্যকেও। এক সিভিক ভলান্টিয়ারের চরম দুঃসাহসিক ও বুদ্ধিদীপ্ত তৎপরতায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক দুষ্কৃতী। বাইক চুরি করে পালানোর পথে সে জনবহুল রাস্তায় এক মহিলার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছিল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যটি নজরে আসে কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ারের। তারপর শুরু হয় এক রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া!

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুসকরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কাজ করছিলেন এক ব্যক্তি। বাইরে রাখা ছিল তাঁর বাইক। সেই সুযোগে চুপিসারে বাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় এক দুষ্কৃতী। চুরি করা বাইকে চেপেই সে বর্ধমান-বোলপুর ২বি জাতীয় সড়ক ধরে দ্রুত গতিতে পালাতে থাকে। পালানোর পথেই রাস্তার উপর হেঁটে যাওয়া এক মহিলার হাতের ব্যাগ সজোরে ছিনিয়ে নিয়ে আরও দ্রুত গতিতে ছুট লাগায়। ঠিক সেই সময়েই গুসকরা পৌরসভা এলাকায় ট্র্যাফিক সামলাচ্ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার তন্ময় পাল। মহিলার আর্ত চিৎকার কানে আসতেই তিনি বুঝতে পারেন কী ঘটেছে। এক মুহূর্ত দেরি না করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই দুষ্কৃতীর পথ আটকানোর চেষ্টা করেন তন্ময়। কিন্তু বাইকের গতি না কমিয়ে জাতীয় সড়ক ধরে ভেদিয়ার দিকে ছুট লাগায় চোর।

দুষ্কৃতীকে হাতছাড়া হতে দেখেও আশা ছাড়েননি তন্ময়। নিজের কর্তব্যস্থল ছেড়ে ছুটে গিয়ে সামনে দিয়ে যাওয়া একটি চারচাকা গাড়িতে সটান উঠে পড়েন তিনি! শুরু হয় বাইকের পিছনে গাড়ির তাড়া। কিন্তু গোবিন্দপুর মোড়ে এসে ওই চারচাকা গাড়িটি অন্য পথে বেঁকে যায়। তাতেও দমে যাননি সিভিক ভলান্টিয়ার তন্ময় পাল। দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পিছনে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সে সওয়ার হয়ে নেন! একেবারে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দুষ্কৃতীর পিছু ধাওয়া করতে থাকেন তিনি।

এই রুদ্ধশ্বাস ধাওয়ার মধ্যেই তন্ময় ফোনে গোবিন্দপুর মোড়ে কর্তব্যরত অপর সিভিক ভলান্টিয়ার সুরজিৎ পাত্র এবং গুসকরা ট্র্যাফিক ওসি বিশ্বনাথ পাইনকে পুরো ঘটনা জানান। দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এদিকে, পুলিশের তাড়া এবং তীব্র গতিতে পালানোর সময় বটগ্রাম মোড়ের কাছে একটি স্পিড ব্রেকার (স্থানীয় ভাষায় বাম্পার) টপকাতে গিয়ে বাইক নিয়ে সজোরে উল্টে পড়ে ওই অভিযুক্ত। বাইক ফেলে দিয়ে সে মাঠের দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই সেখানে পৌঁছে যান ট্র্যাফিক ওসি বিশ্বনাথ পাইন এবং গুসকরা ফাঁড়ির ওসি বিশ্বনাথ দাস সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। মাঠ থেকেই ধরে ফেলা হয় দুষ্কৃতীটিকে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সিভিক ভলান্টিয়ার তন্ময় পালের বীরত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতার জন্য এলাকাবাসী তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া বাইকটি এবং ছিনিয়ে নেওয়া মহিলার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এক সিভিক ভলান্টিয়ারের এই অনবদ্য সাহসিকতায় কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে।