‘অপারেশন সিঁদুর’ সাফল্যে স্বস্তি, তবুও মন ভার নিহতের স্ত্রীর! ‘এখানেই থেমে থাকলে হবে না, হামলা চালাতে হবে গোটা ওই দেশে’

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ নিরীহ পর্যটকদের উপর নৃশংস জঙ্গি হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এই অভিযানের পর গোটা দেশজুড়ে যখন খানিক স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ছে, তখন পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তাঁদের মন ভারাক্রান্ত। তাঁরা যেমন প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তেমনই সন্ত্রাসবাদের সমূল বিনাশ এবং দোষীদের কঠিনতম শাস্তির দাবি তুলেছেন।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে যে বর্বর হামলা ঘটেছিল, তাতে প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ মানুষ। এর মধ্যে কলকাতার বেহালার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী সমীর গুহ, কলকাতার বিতান অধিকারী এবং ঝালদার মনীশরঞ্জন মিশ্র সহ ৩ জন বঙ্গসন্তান ছিলেন। স্ত্রী ও কন্যার সামনেই জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল সমীর গুহর শরীর, যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করেছিল। এই হামলা দেশের মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করেছিল।
এই হামলার পর ভারতের পাল্টা প্রত্যাঘাত নিয়ে নিহত সমীর গুহর স্ত্রী শবরী গুহ সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বামীর মৃত্যুর বদলা নেওয়া হয়েছে।” তবে তাঁর আর্জি এখানেই থেমে থাকলে হবে না। সন্ত্রাসবাদের সমূল বিনাশের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে মুছে ফেলতে হলে গোটা ওই দেশের উপর হামলা চালাতে হবে। পহেলগাঁও কাণ্ডের দোষীদের সনাক্ত করে তাদের কঠিনতম শাস্তি দেওয়া হোক।” এই বেদনা ও ক্ষোভের আর্তি থেকেই তাঁর এই বিস্ফোরক দাবি বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পহেলগাঁওয়ে নিহত শুভম দ্বিবেদীর পরিবারও ভারতের এই পাল্টা পদক্ষেপে কিছুটা শান্তি খুঁজে পেয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভমের স্ত্রী ঐশ্বন্য দ্বিবেদী বলেন, “আজ আমার স্বামী শান্তি পেল। শুভমের মৃত্যুর যোগ্য জবাব দিয়েছেন মোদী। ওঁকে ধন্যবাদ জানাই।” সদ্য সন্তানহারা পিতা সঞ্জয় দ্বিবেদীও অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের জন্য মোদী ও ভারতীয় সেনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি জানান, সকাল থেকে টিভির পর্দা থেকে চোখ সরাননি এবং ভারতীয় সেনা ও প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ আমার পরিবার একটু স্বস্তি পেল। আমাদের বিশ্বাস ছিল যোগ্য জবাব দেবেন মোদী।”
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিলের হামলার পর দেশজুড়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল আসমুদ্র হিমাচল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন অপরাধীদের ছাড় নেই। সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে মঙ্গলবার মধ্যরাতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ। ভারতীয় সেনা পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি জায়গায় হামলা চালিয়ে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। এই সফল অভিযানের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভারতীয় সেনার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পহেলগাঁওয়ের বর্বরতার জবাব হিসেবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিহতদের পরিবারগুলিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। তবে সন্ত্রাসবাদের মূল উৎপাটন এবং পহেলগাঁওয়ের দোষীদের শাস্তির দাবি এখনও তাদের মনে জোরালোভাবে রয়ে গেছে। এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়াগুলি প্রমাণ করে যে, এই হামলা শুধু একটি সামরিক অভিযান ছিল না, এটি দেশের সাধারণ মানুষের গভীর যন্ত্রণা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিল।