ইংল্যান্ড সফরে সহ-অধিনায়ক নন বুমরাহ, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে জোর বিসিসিআইয়ের

ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র এবং টেস্ট দলের বর্তমান সহ-অধিনায়ক যশপ্রীত বুমরাহ আসন্ন ইংল্যান্ড সফরে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকছেন না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে যে, জুনের শেষ দিকে শুরু হতে চলা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বুমরাহ সম্ভবত পুরো সময় খেলবেন না। তাঁর ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’, অর্থাৎ কাজের চাপ সামলানোর কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুমরাহ নিঃসন্দেহে ভারতের এক নির্ভরযোগ্য পেস বোলার, কিন্তু বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের মতে, সহ-অধিনায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এমন কাউকে দেওয়া উচিত যিনি সিরিজের পাঁচটি টেস্টেই অংশ নিতে পারবেন। বোর্ডের একজন কর্তা এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা চাই একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় পুরো সিরিজের জন্য অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়ক থাকুক। বুমরাহ যদি সবকটি ম্যাচ না খেলে, তাহলে প্রতি ম্যাচে আলাদা আলাদা সহ-অধিনায়ক রাখাটা ঠিক হবে না।”

যদিও যশপ্রীত বুমরাহের অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা আছে – তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের এক ঐতিহাসিক জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মোট দুটি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন – তবুও তাঁর পুরনো পিঠের চোট এবং অন্যান্য আঘাতের ইতিহাসের কারণে বিসিসিআই এই দীর্ঘ ও কঠিন সফরে তাঁর উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপাতে চাইছে না। ২০২২ সালে পিঠের অস্ত্রোপচারের পর প্রায় এগারো মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি, যার ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলতে পারেননি।

ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রীও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বুমরাহকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। তিনি মনে করেন, দুটি টেস্ট খেলার পর বুমরাহের শারীরিক অবস্থা দেখে পরবর্তী ম্যাচের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। চারটির বেশি টেস্ট না খেলানোই হয়তো ভালো, তবে যদি সে খুব ভালোভাবে শুরু করে এবং শরীর সায় দেয়, তবে পাঁচটিও খেলতে পারে – কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থাই এখানে প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, বিসিসিআই নির্বাচকরা এই সুযোগে একজন তরুণ ক্রিকেটারকে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য গড়ে তুলতে চাইছেন। বর্তমানে ভারতীয় দলে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে শুভমন গিল (২৫ বছর) এবং ঋষভ পন্থকে (২৭ বছর) এই ভূমিকার জন্য যোগ্য মনে করা হচ্ছে। বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা এবং কেএল রাহুলের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বয়স ৩০ বছরের উপরে, এবং যশস্বী জয়সওয়ালকে (২৩ বছর) এখনও এইরকম বড় দায়িত্বের জন্য যথেষ্ট তরুণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শুভমন গিল গত কয়েক বছরে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নাম বহুবার আলোচনায় এসেছে। তাই তাকে সহ-অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব দিয়ে পরখ করে দেখার একটা সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী ২০শে জুন থেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের দীর্ঘ টেস্ট সিরিজ শুরু হয়ে চলবে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত। টানা পাঁচটি টেস্ট একজন ফাস্ট বোলারের জন্য অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাই বুমরাহকে সঠিক সময়ে বিশ্রাম দেওয়া এবং তাঁর মূল্যবান কর্মজীবন দীর্ঘায়িত করাই বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজে যশপ্রীত বুমরাহ তাঁর মূল ভূমিকায় অর্থাৎ একজন বোলার হিসেবেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তবে সহ-অধিনায়কের বাড়তি চাপ তাঁর উপর থাকছে না। বরং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করার দিকেই আপাতত মনোযোগ দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট দল।