নির্বাসন কাটিয়ে ফিরছেন রাবাদা, কাল মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে গুজরাটের জার্সিতে

নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবনের দায়ে ক্রিকেট থেকে সাময়িক নির্বাসনে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা পেসার কাগিসো রাবাদা। অবশেষে তাঁর উপর থেকে সেই এক মাসের শাস্তি উঠে যাওয়ায় ক্রিকেটের মূলস্রোতে ফিরতে চলেছেন তিনি। আগামীকাল, মঙ্গলবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে মাঠে নামতে পারেন ২৯ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া তারকা।

চলতি আইপিএল মরশুমের শুরুতে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন রাবাদা। সেই ম্যাচগুলিতে তিনি দুটি উইকেটও নিয়েছিলেন। এরপর গত ৩ এপ্রিল হঠাৎই তিনি দেশে ফিরে যান, যার কারণ তখন স্পষ্ট ছিল না। কিছুদিন আগে রাবাদা নিজেই জানান যে একটি ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ার ফলেই তাঁকে ক্রিকেট থেকে সাময়িক নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে রাবাদা তখন দ্রুত মাঠে ফেরার অঙ্গীকার করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-২০ লিগ খেলার সময় একটি পার্টিতে কোকেন জাতীয় নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবনের ফলেই তিনি এই শাস্তির মুখে পড়েন বলে জানা যায়। ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই আইপিএল থেকে তাঁর সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তিনি শুবমন গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটান্স শিবির ছেড়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (পূর্বতন টুইটার) রাবাদা নিজেও এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবনের পর তাঁর শরীরে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল এবং সেই কারণেই তিনি আইপিএল ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরেন। তিনি তাঁর কৃতকর্মের জন্য গভীর অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটকে এতটা হালকাভাবে আর কখনও নেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাসনের সময়টা কঠিন ছিল স্বীকার করে তিনি তাঁর কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য ক্রিকেট বোর্ড (SACA), গুজরাট টাইটান্স, তাঁর আইনজীবী, মনোবিদ এবং পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই নির্বাসন উঠে যাওয়ায় কাগিসো রাবাদার সামনে ১১ জুন থেকে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার পথও খুলে গেল।

প্রসঙ্গত, আইপিএলে বিদেশি বোলারদের মধ্যে কাগিসো রাবাদার পারফরম্যান্স বরাবরই উজ্জ্বল। ২০২০ সালের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলে ৩০টি উইকেট নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে বেগুনি টুপি জিতেছিলেন। অতীতের এই পারফরম্যান্স এবং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে আসার পর গুজরাট টাইটান্সের বোলিং আক্রমণে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।