রাজ্যপাল-শুভেন্দু ঘুরে এসেছেন! এতদিন কেন যাননি? মুর্শিদাবাদ সফরের আগে যা যা বললেন মমতা

গত এপ্রিল মাসে ওয়াকফ আইন বিরোধী প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়েছিল মুর্শিদাবাদ। সেই ‘নবাবের শহর’ এখন অনেক শান্ত। প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। এই প্রেক্ষিতে সোমবার মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দেরিতে যাওয়া নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। সফরের পথে তিনি নিজেই এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি জানিয়েছেন।
মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এর আগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিলম্বিত সফর নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছিল বিরোধীরা। এদিন সফরের পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেন এবং নিজের দেরিতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আগেও যেতে পারতাম, কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই যাওয়া উচিত। অনেকদিন আগেই ওখানে শান্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ ধামের একটি অনুষ্ঠান ছিল, সেটি শেষ করে আজ রওনা দিচ্ছি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা ঠিক নয়। বৃষ্টি বা টর্নেডোর আশঙ্কা থাকে, তাই জেলা সফরের জন্য অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার তিনি ধুলিয়ানে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করবেন। যারা ক্ষতিপূরণ নিতে আসবেন, বিডিও অফিসে তাদের সাথে কথা বলবেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলা আবাস যোজনার (Banglar Bari) ঘর এবং দোকান তৈরি করে দেওয়ারও ঘোষণা করেন তিনি। 1 তাঁর কথায়, “মঙ্গলবার ধুলিয়ানে যাব। আমি জানি যে দুটি পরিবার এখান থেকে চলে গেছে। ওরা নিজেদের ইচ্ছায় গেছে। আমরা তাদের আর্থিক সাহায্য দিয়েছি। তবে কেউ নিতে না চাইলে কিছু করার নেই।”
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ধুলিয়ান থেকে সুতিতে যাবেন সরকারি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের জন্য। এরপর বহরমপুর হয়ে কলকাতায় ফিরবেন।
উল্লেখ্য, গত মাসের শুরুতে মুর্শিদাবাদে অশান্তি দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর। সুতি এবং ধুলিয়ান থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন সবার নজর।