“ওঁকে পাত্তাই দিই না…”-সুজাতাকে আইনি নোটিসের হুঁশিয়ারি সৌমিত্রর, জবাবে প্রাক্তন স্ত্রী যা বললেন?

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের একটি মন্দির সফরকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার প্রাক্তন স্বামী-স্ত্রীর প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে দিলীপ ঘোষের যাওয়া নিয়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে সৌমিত্রকে খোঁচা দেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ এবং তৃণমূল নেত্রী সুজাতা মণ্ডল। এবার সুজাতাকে আইনি নোটিস পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ, যদিও সেই হুমকিকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সুজাতা।
রবিবার সাংবাদিকদের সামনে সৌমিত্র খাঁ বলেন, সুজাতা মণ্ডল সবসময় ব্যক্তিগতভাবে অশালীন এবং উল্টোপাল্টা মন্তব্য করেন। তাই তার মন্তব্যের জন্য সুজাতাকে আইনি নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তবে সৌমিত্রের এই হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সুজাতা। তিনি পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “এসব বাজে কথা। কবে আইনি নোটিস পাঠাবে, সেটা একটু জানিয়ে দিলে ভালো হয়। আমিও অপেক্ষা করে থাকব।” তিনি আরও বলেন, “মানসিক হতাশায় এখন এসব বলছেন সৌমিত্র। ওঁর কথায় আমি গুরুত্বও দিই না, পাত্তাও দিই না।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে সৌমিত্র খাঁ এবং সুজাতা মণ্ডলের বিবাহবিচ্ছেদ হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের মধ্যে কথার লড়াই প্রায়শই দেখা যায়। এবার দিলীপ ঘোষকে নিয়ে সৌমিত্রের মন্তব্য এবং তার পাল্টা সুজাতার খোঁচা – এই দুইয়ে মিলে পরিস্থিতি একেবারে মুখোমুখি লড়াইয়ে পৌঁছেছে।
আইনি নোটিসের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সৌমিত্র খাঁ এদিন সুজাতা মণ্ডলের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন। একটি নথি হাতে নিয়ে তিনি দাবি করেন, সুজাতা গত ৬ বছর ধরে শ্যামবাজার এভি স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন, কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তিনি স্কুলে একদিনের জন্যও শিক্ষকতা করতে যাননি অথচ প্রতি মাসে নিয়ম করে মাইনে তুলেছেন। এই বিষয়টি তিনি রাজ্য সরকারকে জানাবেন অথবা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করবেন বলেও জানান।
সৌমিত্রের এই অভিযোগকে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সুজাতা মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমি বহু দিন ওই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত নই।” এরপর সৌমিত্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে সুজাতা বলেন, “আসলে ওঁর পুঁথিগত শিক্ষা আমি জানি। আর আমি কী, সেটাও আমি জানি। আমার ওর মতো বেআইনি রোজগার নয়। আর আমি ওর মতো অসৎ ভাবে জেতা সাংসদও নই।” সব মিলিয়ে, দিলীপ ঘোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন প্রাক্তন দম্পতির আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে মোড় নিয়েছে।