‘আমার না হলে, কারও হতে দেব না’- অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ায় প্রেমিকাকে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারল বিবাহিত প্রেমিক

বিবাহ ঠিক হয়েছিল অন্যত্র, আর সেই ‘অপরাধে’ এক তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা চালালো তার বিবাহিত প্রেমিক এবং তার সহযোগীরা। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের মাউ জেলার ঘোসি কোতোয়ালি এলাকায়। হামলার শিকার ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই তরুণীর আগামী ২৩ মে তিলক অনুষ্ঠান এবং ২৭শে মে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। তার জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরুর ঠিক কয়েকদিন আগেই এই ভয়ঙ্কর হামলার শিকার হলেন তিনি। অভিযুক্ত প্রধান হামলাকারী রাম জনম সিং প্যাটেল, যিনি নিজেই বিবাহিত এবং চার সন্তানের পিতা, এই তরুণীর সঙ্গে তার প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সামনে এসেছে যে, প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছে জানতে পেরেই রাম জনম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এই জঘন্য হামলার পরিকল্পনা করেন। শনিবার যখন ওই তরুণী ঘোসি কোতোয়ালি এলাকার একটি গ্রাম থেকে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় রাম জনমের দুই সহযোগী মনোজ যাদব এবং সুরেন্দ্র যাদবের সহায়তায় দুই মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহী তার পথ আটকে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মহেশ সিং আত্রি ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানিয়েছেন, অ্যাসিড আক্রমণে মেয়েটির মুখ, ঘাড় এবং কাঁধ মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত আজমগড়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে ডাক্তাররা জানিয়েছেন তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
হাসপাতালে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই সাহসী তরুণী জানিয়েছেন, অ্যাসিড ছুঁড়ে মারার সময় হামলাকারীদের মধ্যে একজন তাকে হুমকি দিচ্ছিল, “যদি তুমি আমার না হও, তাহলে আমি তোমাকে অন্য কারও হতে দেব না”। এই কথাগুলি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার এক চরম ও বিকৃত রূপকেই সামনে এনেছে, যেখানে নারীকে নিজের সম্পত্তি ভাবা হয় এবং অন্য কারোর হওয়ার আগেই শেষ করে দিতে চাওয়া হয়।
এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অ্যাসিড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত রাম জনম সিং প্যাটেল এবং তার দুই সহযোগী মনোজ যাদব ও সুরেন্দ্র যাদব সহ মোট তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্যাটেল স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং তার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েই এই হামলা চালান। এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও পুলিশ উদ্ধার করেছে।
একজন বিবাহিত পুরুষের বিকৃত মানসিকতা এবং তার ফলে একটি মেয়ের জীবন ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই ঘটনা আবারও সমাজে নারী সুরক্ষার প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে এবং পুরুষদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।