IPL-এ ফের DRS বিতর্ক, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আউট, রিভিউ নিলে নট-আউট হতেন CSK তারকা

শনিবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)-এর চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB) ম্যাচে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে বড়সড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ফিল্ড আম্পায়ার তাকে এলবিডব্লিউ আউট ঘোষণা করলেও, নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তিনি রিভিউ নিতে পারেননি, অথচ পরে দেখা গেছে, রিভিউ নিলে তিনি সম্ভবত আউট হতেন না।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?
ঘটনাটি ঘটে চেন্নাই সুপার কিংসের ইনিংসের ১৬.৩ ওভারে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ফাস্ট বোলার লুঙ্গি এনগিদির একটি ফুলটস বল ব্যাটার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের পায়ে লাগে। লুঙ্গি এনগিদি এবং আরসিবির ফিল্ডারদের আবেদনে ফিল্ড আম্পায়ার দ্রুত আঙুল তুলে ব্রেভিসকে এলবিডব্লিউ আউট ঘোষণা করেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই ব্রেভিস এবং অন্য প্রান্তে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা লেগ-বাই রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেন এবং প্রান্ত বদল করেন।
রিভিউ আবেদন ও আরসিবির আপত্তি
প্রান্ত বদল করে ব্রেভিস ও জাদেজা যখন নিজেদের মধ্যে রিভিউ নেওয়া নিয়ে পরামর্শ করছিলেন, তখন বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস যখন শেষ পর্যন্ত ডিআরএসের আবেদন জানান, তখন মাঠে থাকা আম্পায়াররা কিছুটা ধন্দে পড়েন। এই সময়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ফিল্ডাররা, যার মধ্যে তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলিও ছিলেন, তীব্রভাবে আপত্তি জানান। তাদের জোরালো দাবি ছিল যে ডিআরএস নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তাই রিভিউয়ের আবেদন বৈধ নয়। আরসিবির খেলোয়াড়দের আপত্তিতে আম্পায়াররাও শেষ পর্যন্ত সায় দেন। ফলে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ডিআরএসের আবেদন অবৈধ বলে গণ্য হয় এবং তাকে আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
বল ট্র্যাকিংয়ে সামনে এল আসল চিত্র
কিন্তু বিতর্ক আরও বাড়ে যখন পরে বল ট্র্যাকিং বা Hawk-Eye replay-তে দেখা যায় যে, লুঙ্গি এনগিদির বলটি ইমপ্যাক্টে আম্পায়ার্স কল দেখালেও, তা আসলে স্টাম্পে লাগছিলই না। এর অর্থ হলো, যদি ডেওয়াল্ড ব্রেভিস রিভিউ নিতে পারতেন এবং সেটি বৈধ হতো, তাহলে তিনি নিশ্চিতভাবেই নট-আউট ঘোষিত হতেন।
ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে বিতর্ক, ১৫ সেকেন্ডের নিয়ম
এই ঘটনা নিয়ে ম্যাচের ধারাভাষ্যকারদের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা যায়। আম্বাতি রায়াড়ু এবং অজয় জাদেজার মতো ধারাভাষ্যকাররা ব্যাটারের পক্ষে কথা বলেন। তাদের যুক্তি ছিল যে, মাঠে যদি টাইমার স্পষ্টভাবে দেখা না যায়, তাহলে ব্যাটারদের পক্ষে নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। আম্পায়ার আঙুল তোলার পর থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে ব্যাটারকে ডিআরএসের আবেদন জানাতে হয় – এটি আইপিএলের একটি নিয়ম। রিপ্লেতে দেখা গেছে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস সম্ভবত ১৫ সেকেন্ড অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। ১৫ সেকেন্ড শেষ হয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফিল্ড আম্পায়ারকে তৃতীয় আম্পায়ারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে হয়।
উল্লেখ্য, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ২১৪ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই সুপার কিংস ১৬.২ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল। লুঙ্গি এনগিদির বলে আয়ুষ মাত্রে আউট হওয়ার পরেই ব্যাট হাতে ক্রিজে এসেছিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং দুর্ভাগ্যবশত এসেই প্রথম বলে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হন। এই ঘটনা আইপিএলের মতো হাই-প্রোফাইল টুর্নামেন্টে ডিআরএস ব্যবহারের সময়সীমা এবং মাঠে টাইমার প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।