পাকিস্তানি মহিলাকে বিয়ে করে গেল চাকরি ! সিআরপিএফ জওয়ানের দাবি ‘অনুমতি নিয়েই বিয়ে করেছি’

একজন পাকিস্তানি মহিলাকে বিয়ে করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এক সিআরপিএফ জওয়ানকে। জম্মুর ঘারোটা এলাকার বাসিন্দা মুনির আহমেদকে এই পদক্ষেপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে চাকরি হারানোর পর এবার মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত জওয়ান মুনির আহমেদ। তাঁর দাবি, তিনি সিআরপিএফ সদর দফতরের অনুমতি পাওয়ার পরেই গত মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানি তরুণী মেনাল খানকে বিয়ে করেছেন।
মুনির আহমেদ ২০১৭ সালে সিআরপিএফ-এ যোগ দেন। চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে তিনি চ্যালেঞ্জ করবেন বলে জানিয়েছেন। মুনিরের আশা, তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
সিআরপিএফ-এর অভিযোগ, মুনির আহমেদ তথ্য গোপন করে এক পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেছেন। এছাড়াও, তাঁর স্ত্রীর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও তিনি তাঁকে ভারতে রেখে দিয়েছেন। সিআরপিএফ-এর মতে, তিনি যা করেছেন, তা জাতীয় নিরাপত্তা এবং চাকরির শর্তের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে মুনির জানিয়েছেন যে তিনি সংবাদমাধ্যম থেকেই প্রথম চাকরিচ্যুতির খবর জানতে পারেন। তার পরে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠির মাধ্যমে তাঁকে সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চাকরি হারানোর কথা জেনে তিনি এবং তাঁর পরিবার স্তম্ভিত। মুনিরের মূল দাবি, সদর দফতর থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই তিনি পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেছেন।
মুনির আহমেদ জানিয়েছেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার আইনি সাহায্য নেবেন তিনি। আদালতেও মামলা করবেন। আত্মবিশ্বাসী মুনির বলেন, “ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আমি নিশ্চিত।”
গতকালই সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে মুনির আহমেদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়। অনলাইনে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা মেনাল খানের সঙ্গে প্রায় দু বছর আগে পরিচয় হয় মুনিরের। এর পর সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁদের মধ্যে। গত বছর ২৪ মে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের নিকাহ সম্পন্ন হয়।
এই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন মুনিরের স্ত্রী মেনাল। গত ২২ মার্চ তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যদিও মেনালের স্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদন করায় জম্মু কাশ্মীর হাইকোর্ট তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে। দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদন করে মুনির এবং তাঁর স্ত্রী যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং ইন্টারভিউও দেন তাঁরা।
মুনিরের দাবি, বিয়ের পর যাবতীয় নথি, তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের হলফনামা, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের হলফনামা, জেলা উন্নয়ন পর্ষদের হলফনামা যথাযথ নিয়ম মেনে তিনি সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে বিয়ের কথা জানান। তখন তাঁকে ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করার ক্ষেত্রে এনওসি (No Objection Certificate) দেওয়ার কোনও সংস্থান সিআরপিএফ-এ নেই। কিন্তু যেহেতু তিনি সব নথি জমা দিয়েছিলেন, তাই মুনির ভেবেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করলেও কোনও সমস্যা নেই।
মুনিরের দাবি, “২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথমবার আমি বিয়ে করার পরিকল্পনার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। তখন আমাকে পাসপোর্ট, বিয়ের কার্ড, হলফনামা সহ কিছু নথি জমা দিতে বলা হয়। আমি সে সমস্ত কিছু জমা দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল আমাকে সদর দফতর থেকে বিয়ের করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।”
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তখনই মুনিরের বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে।