“গ্যাং রেপে দলের সবাই দায়ী”-ফের জানিয়ে দিলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের দায়ভার নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পষ্ট বার্তা ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, কোনও নারী গণধর্ষণের শিকার হলে সেই ঘটনায় জড়িত দলের প্রত্যেকের একই দায়ভার থাকবে। অভিযুক্তদের প্রত্যেকে ধর্ষিতার গোপনাঙ্গে নিজেদের শরীরী অংশ প্রবেশ না করালেও, কেবল একই উদ্দেশ্য নিয়ে সম্মিলিতভাবে অপরাধে অংশ নেওয়া এবং দলে থাকাটাই তাদের সবাইকে গণধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট।
বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (২) (জি) ধারার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়। শীর্ষ আদালত এই প্রসঙ্গে ২০০৩ সালে তাদেরই দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় – অশোক কুমার বনাম হরিয়ানা সরকার মামলা – আরও এক বার মনে করিয়ে দেয়। সেই রায়ে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল যে, কোনও গ্যাং বা দলের একজন সদস্যও যদি ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে পুরো দল বা গ্যাংটি একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং শাস্তি পাবে। এক্ষেত্রে অপরাধের পিছনে থাকা অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্যটাই আইনত মুখ্য বিবেচ্য বিষয়।
মধ্যপ্রদেশের কাটনি জেলার ২০০৪ সালের একটি গণধর্ষণ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই নীতিটি পুনর্বার স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া একাধিক অভিযুক্তের মধ্যে একজন সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছিল যে, সে নাকি সরাসরি ধর্ষণের শারীরিক কার্যে যুক্ত ছিল না, তাই তাকে রেহাই দেওয়া হোক। কিন্তু তার এই যুক্তি আদালতের কাছে কোনওভাবে গ্রাহ্য হয়নি।
বেঞ্চের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে বিচারপতি বিশ্বনাথন এমন অপরাধে জড়িত গ্যাংয়ের প্রত্যেকের সমান দায়ের কথা কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। সাজার মকুব চেয়ে ওই অভিযুক্তের যে আবেদন ছিল, তা পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, এই মামলাটিতে দায়রা আদালত এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (২) (জি) ধারাটির সঠিক ব্যাখ্যা হাজির করেই গণধর্ষণে জড়িত গ্যাংয়ের সমস্ত সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই মামলায় মেয়েটিকে প্রথমে ওই দল সম্মিলিতভাবে অপহরণ করেছিল, এবং তারপর তাকে ধর্ষণ করা হয়। আইন অনুযায়ী, এমন অপরাধে গ্যাং বা দলের কত জন সদস্য ঠিক শারীরিক নিগ্রহে সরাসরি অংশ নিয়েছিল, তা ধর্তব্যের বিষয় নয়। সম্মিলিতভাবে অপরাধের পরিকল্পনা এবং তাতে অংশগ্রহণই এখানে মূল বিচার্য।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়টি আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, গণধর্ষণের মতো অপরাধে কেবল মূল শারীরিক অংশগ্রহণকারীই নয়, বরং অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত দলের প্রত্যেক সদস্যই সমানভাবে দোষী এবং তাদের সমান শাস্তি হবে। এটি ভবিষ্যতের গণধর্ষণ মামলাগুলিতে নজির হিসেবে কাজ করবে।