“ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা!”-কলকাতায় ‘রুফটপ’ রেস্তরাঁ বন্ধের নির্দেশ দিলেন মেয়র

মেছুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়ল শহর কলকাতার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে। সেই দুর্ঘটনার জেরে কলকাতা পুরসভা শহরজুড়ে ছাদের উপর নির্মিত সমস্ত রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার এক যুগান্তকারী নির্দেশ জারি করেছে। পুর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে ভবনের ছাদ শুধুমাত্র আপৎকালীন আশ্রয় হিসেবেই ব্যবহৃত হবে, কোনও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়।  

কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলিতে দেখা গেছে আগুন লাগলে মানুষ ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাদ যদি রেস্তোরাঁ বা অন্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে সেই পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ছাদ খালি রাখা অত্যন্ত জরুরি। মেয়র বলেন, “যেমন নীচের জায়গা কেউ বিক্রি করতে পারেন না, তেমনি ছাদও বিক্রি করা যায় না। ছাদ রেস্তোরাঁ হিসাবে ব্যবহার চলবে না। কারণ ভবনে আগুন লাগলে ছাদে যেন মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন।”  

ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার প্রতিটি বরো ভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং সেই রিপোর্ট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁগুলিতে নির্দেশ পাঠানো শুরু হয়েছে। পুর প্রশাসন এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে বদ্ধপরিকর। নিয়ম ভাঙা হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে মেছুয়া বাজারের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। সেই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যাদের বেশিরভাগই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান। অভিযোগ ছিল যে হোটেলটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল, একাধিক বেনিয়ম ছিল এবং আগুন লাগার পর বেরোনোর আপৎকালীন পথগুলিও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।  

মেছুয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই দিঘা থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর তিনি বড়বাজার, জোড়াসাঁকো ও ম্যাগমা মার্কেটে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে কয়েকটি দোকানে অগ্নিসুরক্ষার চরম বেনিয়ম এবং গাদাগাদি করে ২৪টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে দমকল, পুরসভা ও পুলিশকে যৌথ বৈঠকে বসে শহরের অগ্নিনিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার পরই পুর প্রশাসন শহরের সমস্ত রুফটপ রেস্তোরাঁ বন্ধ করার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী, বরো ভিত্তিক গবেষণা করে তালিকা তৈরি, ছাদকে শুধুমাত্র এমার্জেন্সি আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ – এই বিষয়গুলিতে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে মূল এমার্জেন্সি গেট বা সিঁড়ি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তখন ছাদই একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। তাই ছাদকে আপৎকালীন আশ্রয় হিসেবে সুরক্ষিত রাখা এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ শহরের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।