“ধর্ষণ করে ছাত্রীদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ব্ল্যাকমেল!”-পুলিশের এনকাউন্টারে গুলিতে আহত যুবক

দেশজুড়ে ধর্ষণে অভিযুক্তদের পুলিশি এনকাউন্টারে আহত হওয়ার ঘটনার মধ্যেই এবার মধ্যপ্রদেশের ভোপালে একই রকম ঘটনা ঘটল। এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে অভিযুক্ত কুখ্যাত গ্যাংস্টার ফারহান পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে বিলকিসগঞ্জ গ্রামের কাছে একটি ‘শর্ট এনকাউন্টারে’ তার পায়ে গুলি লাগে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আরেক অভিযুক্ত আবরারের খোঁজে পুলিশ ফারহানকে সঙ্গে নিয়ে বিলকিসগঞ্জ গ্রামের একটি সম্ভাব্য আস্তানায় যাচ্ছিল। পথেই শৌচকর্মের অজুহাত দেখিয়ে ফারহান পুলিশের ভ্যান থামাতে বলে। গাড়ি থেকে নামার পর সে হঠাৎ করে কর্তব্যরত সাব ইন্সপেক্টরের কাছ থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ সংঘটিত এই এনকাউন্টারে ফারহানের পায়ে গুলি লাগে।
ভোপালের অশোকা গার্ডেন এলাকার পুলিশ আধিকারিক হেমন্ত শ্রীবাস্তব এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় অপর অভিযুক্ত আবরারের খোঁজে ফারহানকে নিয়ে তার সম্ভাব্য আস্তানায় যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। শৌচকর্মের অছিলায় গাড়ি দাঁড় করানোর পর ফারহান পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করার ও পালানোর চেষ্টা করলে বাধ্য হয়েই পুলিশ গুলি চালায়। পায়ে গুলি লাগে ফারহানের।”
গুলিবিদ্ধ ফারহানকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হামিদিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং সে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, ফারহান ভোপালের একটি কুখ্যাত গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ভোপালে পড়তে আসা বিভিন্ন শহরের তরুণীদের বেছে বেছে টার্গেট করত। তাদের মাদকাসক্ত করে ধর্ষণ করত এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করত। বেসরকারি একটি কলেজের তিন ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ।
পুলিশি তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, ফারহানের গ্যাং মূলত সেই সব তরুণীদের শিকার বানাত যারা অন্য শহর থেকে ভোপালে পড়তে আসত এবং শহরের সঙ্গে পরিচিত ছিল না। শহরের অপরিচিত পরিবেশে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা গ্যাংয়ের জন্য সহজ ছিল। এভাবেই ফাঁদ পেতে তরুণীদের জালে ফাঁসাত তারা।
সম্প্রতি এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী ফারহানের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ এবং জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার মারাত্মক অভিযোগ আনেন। ফারহানের অত্যাচার থেকে বাঁচতে ওই তরুণী ভোপাল ছেড়ে ইন্দোরে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও ফারহান তাকে ট্র্যাক করে হেনস্থা করত। ওই সাহসী তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত নতুন গতি পায় এবং পুলিশ ফারহানকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে গণধর্ষণে যুক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এই গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশি জেরায় ফারহান নিজের দোষ স্বীকার করেছে বলেও জানা গেছে। ইন্ডিয়া টুডেকে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ফারহান নাকি জবানবন্দিতে বলেছে যে তার কুকীর্তি নিয়ে তার মনে বিন্দুমাত্রও অনুশোচনা বা অনুতাপ নেই। তার এই স্বীকারোক্তি পুলিশের কাছে ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
এই ঘটনাটি আবারও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।