OMG! সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিচয়, ১৪ বছর বয়সি নাবালিকাকে ৩ দিন ধরে ধর্ষণ!

সোশ্যাল মিডিয়াতে আলাপ থেকে তৈরি হওয়া সম্পর্ক যে কতটা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার আরও একটি মর্মান্তিক উদাহরণ সামনে এল মধ্যপ্রদেশে। জব্বলপুর এলাকায় এক ১৪ বছর বয়সী নাবালিকাকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচিত এক যুবক মান্ডালা জেলার একটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তিন দিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মূল যুবক এবং তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, জব্বলপুরের গারহা থানা এলাকার বাসিন্দা, সপ্তম শ্রেণীতে পড়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজন নামের এক যুবকের আলাপ হয়েছিল। ১৪ বছর বয়সী ওই নাবালিকার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই একটি সম্পর্ক গড়ে তোলে অভিযুক্ত যুবক। তারা ফোনেও কথা বলত। কিন্তু যখন ওই নাবালিকার পরিবার এই সম্পর্কের কথা জানতে পারে, তখন তারা মেয়েটির কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযুক্ত যুবক রাজন জব্বলপুরে এসে মেয়েটিকে একটি নতুন মোবাইল ফোন দিয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে আরও খবর, গত মাসের (এপ্রিল) ১৭ তারিখে ওই নাবালিকার মা শহরের বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে রাজন মেয়েটিকে ফোন করে মান্ডালা আসার জন্য বলে। তার কথা শুনে গত ২১ তারিখে একাই বাসে করে মান্ডলা গিয়েছিল ওই নাবালিকা।

এদিকে, মেয়েটির মা বাড়ি ফিরে এসে মেয়েকে দেখতে পাননি। তিনি এর পিছনে অভিযুক্ত যুবক রাজনের হাত আছে বলে সন্দেহ করেন এবং রাজনকে ফোন করে তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করার হুমকি দেন। এই হুমকির পরেই গত ২৪ তারিখে মেয়েটি নিজেই মান্ডালা থেকে বাড়ি ফিরে আসে।

বাড়ি ফিরে এসে মেয়েটি তার পরিবারের কাছে সব কিছু খুলে বলে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক রাজন এবং তার এক বন্ধু মান্ডালাতে তাকে আটকে রেখেছিল এবং সেখানে তারা তিন দিন ধরে নাবালিকাকে উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় এবং ধর্ষণ করে। মেয়েটির অভিযোগ, রাজন ধর্ষণের ভিডিও এবং কিছু আপত্তিকর ছবি তুলে রেখেছিল এবং ওই ঘটনার কথা কাউকে বললে সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেয় অভিযুক্ত।

সব কিছু জানার পর নাবালিকা তার পরিবারের সঙ্গে থানায় এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। জব্বলপুরের গারহা থানার আধিকারিক প্রসন্ন শর্মা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইন সহ ধর্ষণ এবং হুমকির নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত মূল যুবক রাজন ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করার জন্য ইতিমধ্যেই পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।