ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মাঝে আমেরিকার সাথে বড় সামরিক চুক্তি ভারতের

কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ হামলার ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ তুঙ্গে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশে কড়া সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে ভারত, এমন জল্পনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তিন সেনাকেই পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ঠিক এই আবহেই নিজেদের সামরিক শক্তিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল ভারত। আমেরিকার সঙ্গে একটি বড়সড় সামরিক চুক্তিতে শিলমোহর পড়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে এবং পাকিস্তানকে নতুন করে চাপে ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আমেরিকার সঙ্গে ১৩১ মিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি:
পেন্টাগনের অধীনে থাকা মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (DSCA) ইতিমধ্যেই ভারত-আমেরিকা এই সামরিক চুক্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। অর্থাৎ, ১৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক হার্ডওয়্যার এবং লজিস্টিক সহায়তা ভারতকে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জারি করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, মার্কিন কংগ্রেসকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই সামরিক সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সহায়তা ‘ইন্দো প্যাসিফিক মেরিটাইম ডোমন অ্যাওয়ারনেস’ কর্মসূচির আওতায় ভারতকে সরবরাহ করা হবে। এটি ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সমঝোতা এবং কৌশলগত বোঝাপড়ার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।
ভারতের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পাকিস্তানের উপর প্রভাব:
বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আমেরিকার কাছ থেকে এই ‘সামরিক হার্ডওয়্যার’ নিঃসন্দেহে ভারতীয় সেনার শক্তিকে বহু গুণ বাড়াবে। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতনতা, বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা এবং কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে ভারত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যেকোনো হুমকি সামলাতে আরও বেশি সক্ষম হবে। ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যখন কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি, সেই সময় ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া (মূল টেক্সটে উল্লিখিত ছাড়পত্রের সময়কাল অনুযায়ী) এই ছাড়পত্র বা বর্তমান চুক্তিটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ কৌশলগত দিক থেকে পাকিস্তানকে প্রবলভাবে চাপে ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের কাছ থেকে রাফাল মেরিন জেট সংগ্রহ:
আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তির পাশাপাশি, সম্প্রতি ভারত ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল মেরিন কমব্যাট জেট কেনার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনা ২৬টি অত্যাধুনিক রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান হাতে পাবে। জানা গেছে, এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানগুলি আইএনএস বিক্রমাদিত্য বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের উপর মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে এই এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারের উপর সুখোই যুদ্ধবিমান রাখা আছে। ভারতের এই শক্তিশালী বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজকে আরব সাগরে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য।
উপসংহার:
একদিকে আমেরিকার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি এবং অন্যদিকে ফ্রান্সের কাছ থেকে অত্যাধুনিক রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান সংগ্রহ – এই দুটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা বদ্ধপরিকর। পহেলগাঁও হামলার পর যখন পাকিস্তানের উপর সম্ভাব্য পদক্ষেপের জল্পনা চলছে, এই সামরিক প্রস্তুতি নিঃসন্দেহে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে।