IPL Points Table: জমে উঠেছে পয়েন্ট টেবিলের লড়াই, দেখেনিন প্লে-অফের দৌড়ে কারা?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) ২০২৫-এর লিগ পর্ব এখন শেষ লগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। ৪৮টি ম্যাচ ইতিমধ্যেই খেলা হয়ে গেছে, আর বাকি মাত্র ২২টি ম্যাচ। এই পরিস্থিতিতে প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই রীতিমতো জমে উঠেছে। পয়েন্ট টেবিলের হিসেব প্রতি মুহূর্তে পাল্টাচ্ছে, আর মজার বিষয় হলো, খাতায়-কলমে টুর্নামেন্টের সবকটি দলই (১০টি) এখনও প্লে-অফে পৌঁছনোর সুযোগ ধরে রেখেছে, যদিও কারো কারো সুযোগ উজ্জ্বল আর কারো কারো জন্য সমীকরণ অত্যন্ত জটিল।
শীর্ষ সারির দলগুলো: উজ্জ্বল সম্ভাবনা
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে। তাদের হাতে থাকা বাকি চারটির মধ্যে মাত্র দু’টি ম্যাচ জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি তিনটি ম্যাচ জিতলে তারা প্রথম দু’টি দলের মধ্যে থেকে কোয়ালিফায়ারে খেলারও ভালো সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (MI) ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) সমান সংখ্যক ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। এই দুই দলেরই বাকি চারটি করে ম্যাচ। মুম্বাই এবং দিল্লি— উভয়েই যদি তাদের বাকি চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি করে ম্যাচ জেতে, তাহলে প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদি তারা বাকি চারটি ম্যাচই জেতে, সেক্ষেত্রে প্রথম দুই দলের মধ্যে শেষ করারও জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটান্স (GT) ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, তবে তাদের হাতে বাকি পাঁচটি ম্যাচ। শীর্ষ দুই দল থেকে এক ম্যাচ কম খেলা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। বাকি পাঁচটির মধ্যে মাত্র তিনটি জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে গুজরাটের। যদি তারা অন্তত চারটি ম্যাচ জিততে পারে, তবে পয়েন্ট তালিকায় প্রথম দুইয়ে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে তাদের।
মধ্য সারির দল: জিততেই হবে
মধ্য সারিতে থাকা দলগুলোর মধ্যে পাঞ্জাব কিংস (PBKS) ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। তাদের বাকি পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটি জিতলেই প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদি তারা তিনটি ম্যাচও জিততে পারে, তবে নেট রান রেটের হিসেব এবং অন্য দলের ফলাফলের উপর নির্ভর করে প্রথম চারে থাকার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, লখনৌ সুপার জায়ান্টস (LSG) ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে। প্লে-অফ নিশ্চিত করার জন্য তাদের বাকি চারটি ম্যাচই জিততে হবে। যদি তারা তিনটি ম্যাচ জিততে পারে, সেক্ষেত্রেও অঙ্কের হিসেবে প্লে-অফে পৌঁছনোর সুযোগ থাকবে, তবে তা নির্ভর করবে অন্য দলের ফলাফলের উপর।
নিচের দিকের দল: অলৌকিক কিছু ঘটাতে হবে
পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে থাকা দলগুলোর জন্য প্লে-অফের পথ বেশ কঠিন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে। প্লে-অফে উঠতে হলে তাদের হাতে থাকা বাকি চারটি ম্যাচই জিততে হবে। সেক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ১৭। তবে এরপরও নেট রান রেট এবং অন্য দলের ফলাফলের জটিল হিসেব নিকেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।
রাজস্থান রয়্যালস (RR) ১০ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে এবং প্যাট কামিন্সের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH) ৯ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে। প্লে-অফে পৌঁছনোর জন্য এই দুই দলকেই তাদের বাকি সব ম্যাচ জিততে হবে (রাজস্থান ৪টি, হায়দরাবাদ ৫টি)। সেক্ষেত্রে রাজস্থান সর্বোচ্চ ১৪ এবং হায়দরাবাদ ১৬ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। তবে এরপরও তাদের ভাগ্যের অনেকটাই নির্ভর করবে অন্য দলের পারফরম্যান্সের উপর।
গণিতের খেলায় টিকে থাকা দল: চেন্নাই সুপার কিংস
পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে রয়েছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বাধীন চেন্নাই সুপার কিংস (CSK)। ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে থাকা চেন্নাই বাস্তবে প্লে-অফের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকেই গেছে। তবে খাতায়-কলমে এখনও তারা টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয়নি। তাদের বাকি পাঁচটি ম্যাচই জিততে হবে, সেক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ ১৪ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। কিন্তু এরপরও প্লে-অফে যেতে হলে তাদের জন্য অত্যন্ত জটিল এক গাণিতিক হিসেব এবং বাকি ৯টি দলের ফলাফলের উপর নির্ভর করতে হবে, যা প্রায় অসম্ভব।
সামনে থাকা ২২টি ম্যাচ প্রতিটি দলের জন্যই তাই ‘ফাইনাল’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দলগুলো সেরা দুইয়ের জায়গা ধরে রাখতে চাইবে, তেমনই নিচের দিকের দলগুলো শেষ মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগাতে ঝাঁপাবে। সব মিলিয়ে আইপিএল ২০২৫-এর প্লে-অফের দৌড় যে আরও জমজমাট এবং শ্বাসরুদ্ধকর হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।