“হোটেলে দাহ্য পদার্থ ছিল….”-বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতার বড়বাজার এলাকার মেছুয়া ফলপট্টির হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।
দিঘায় নতুন করে তৈরি হওয়া শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত থেকে সৈকত শহরেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে বড়বাজারের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি কলকাতার পরিস্থিতি তদারকি শুরু করেন। দিঘা থেকেই তিনি কলকাতা পুলিশের কন্ট্রোল রুম এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং উদ্ধারকার্য ও সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, “সব মিলিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হোটেলের ভিতরে দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও, এই ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।
অন্যদিকে, বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডে এতগুলো মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং আমলাদের অনেকে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন, এই বিষয়টি উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়াতে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, “১৫ বছর আগের স্টিফেন কোর্ট ট্র্যাজেডির স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে এ ঘটনা। যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং অন্যান্য অবহেলার কারণে এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে।” তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, “অথচ রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসন দিঘায় ৩ দিনের ছুটি কাটাতে ব্যস্ত ছিল!” তিনি ঘুরিয়ে রাজ্য সরকারের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এবং এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।
বড়বাজারের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শহরকে শোকাহত করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হলেও, এই ঘটনার কারণ, দায়বদ্ধতা এবং ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রীর দিঘায় উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার চেষ্টা করছে।