‘এটা আমি একেবারেই পছন্দ করি না’, BJP নেতা যা বললেন… জোর শোরগোল!

গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। ঐ ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার গেটে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়েছিলেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এর ঠিক পরেই, এবার বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করলেন যে, তিনি কোনো দেশের পতাকা পোড়ানো পছন্দ করেন না। তাঁর এই মন্তব্যে দলের অন্দরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সোমবার বর্ধমান শহরে জিটি রোডের লক্ষ্মীপুর মাঠের কাছে আয়োজিত ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানোর বিষয়ে সাংবাদিকরা তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনও দেশের পতাকা পোড়ানো উচিত নয়। এটা আমি একেবারেই পছন্দ করি না।”
যদিও ঐ একই দিনে সকালে কলকাতার ইকো পার্কে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে খোঁচা দিয়ে বিজেপি নেতা বলেছিলেন, “অনেক সময়ই ওরা ফালতু কথা বলে। এরপর মার খেয়ে বাড়ি চলে যায়। আদৌ পরমাণু অস্ত্র রয়েছে নাকি ওটা পচে গিয়েছে, সেটা কেউই জানে না। আর ভারতকে পরমাণু অস্ত্র দেখাবেন না। তাহলে হামলার পরের দিন থেকে পৃথিবীর ইতিহাস বা ভূগোলে পাকিস্তান বলে কোনও দেশ থাকবে না।”
একের দিকে যখন তিনি পাকিস্তানকে নিয়ে এমন কঠোর বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই কোনো দেশের পতাকা না পোড়ানোর বিষয়ে তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দিলীপ ঘোষ আসলে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিধানসভার গেটে পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রতি প্রচ্ছন্ন বিরোধিতাই করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা রাজ্য বিধানসভার গেটে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়েছিলেন। দিলীপ ঘোষ যদিও সরাসরি কারোর নাম উল্লেখ করেননি, ফলে তাঁর এই মন্তব্য দলের অন্দরের ভিন্ন সুর না কি অন্য কোনো বার্তা বহন করছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে জল্পনা জিইয়ে রয়েছে। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য দলের মধ্যেকার ভিন্নমত বা কৌশলগত পার্থক্যের ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।