পিএম মোদীর নামে আপত্তিকর পোস্ট বাংলার যুবকের! ‘আলিপুরদুয়ারে’ BJP নেতা গ্রেফতার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ একাধিক বিজেপি শীর্ষ নেতাকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর লেখালেখির অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার সকালে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, ঐ আপত্তিকর পোস্টগুলির জেরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী যুবককে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করিয়ে ‘শাস্তি’ দিয়েছেন এলাকার বিজেপি জেলা সম্পাদক। এই ঘটনায় ঐ বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত বিজেপি নেতার নাম বিপ্লব দাস। তিনি আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম এলাকার বিজেপি জেলা সম্পাদক পদে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, ঐ যুবক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। এই পোস্টগুলি নজরে আসার পরেই বিপ্লব দাসের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক ঐ ব্যবসায়ীর বাড়িতে চড়াও হন। সেখানে ঐ যুবককে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং এমনকি সম্পত্তি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।  

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্ত শুরু করে এবং রবিবার রাতেই ঐ বিজেপি নেতা বিপ্লব দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই গ্রেফতারি নিয়ে অবশ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। ধৃত নেতা বিপ্লব দাসের দাবি, ঐ যুবক আসলে প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত খারাপ মন্তব্য করেছিলেন। আমজনতাই ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করান, তিনি শুধুমাত্র সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পদ্ম শিবিরের বিধায়ক মনোজ ওঁরাও এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যে যুবক প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করলেন, পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিল না, অথচ যিনি এর প্রতিবাদ করলেন, তাকেই অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হলো। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

যদিও এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের জেলা পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, যুবককে হেনস্থা করার অভিযোগেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  

প্রসঙ্গত, নেতা-নেত্রীদের নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট নতুন নয়, তবে তার জেরে এমন সরাসরি শাস্তি দেওয়া এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতার গ্রেপ্তারীর ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিষয়টি ঘিরে কুমারগ্রাম সহ আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক মহলে টানাপোড়েন চলছে।