দিঘায় আজ জগন্নাথ দেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা, মহাযজ্ঞে পূর্ণাহুতি দেবেন মমতা, চলছে জোর আয়োজন

বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে সম্পন্ন হতে চলেছে দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ দেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এই পবিত্র ও বর্ণাঢ্য আয়োজন ঘিরে দিঘা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাজ সাজ রব।

জগন্নাথ দেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠার পূর্বে আজ, মঙ্গলবার এক বিশাল মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মহাযজ্ঞে পূর্ণাহুতি দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত বৈদিক রীতি ও ঐতিহ্য মেনেই এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে একাধিক পুরোহিত অংশ নিচ্ছেন।

মন্দিরের ভিতরে মূল আকর্ষণ পুরীর আদলে তৈরি কাঠের বিগ্রহ। পাশাপাশি থাকছে নবনির্মিত পাথরের বিগ্রহ এবং রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি। কাঠের বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করবেন পুরী থেকে আগত প্রবীণ পান্ডারা। অন্যদিকে, পাথরের বিগ্রহ এবং রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করবেন ইস্কনের সন্ন্যাসীরা। এটি পুরীর ঐতিহ্য এবং ইস্কনের আধ্যাত্মিকতার এক সুন্দর মেলবন্ধন।

উল্লেখ্য, এই প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে পুজো পাঠ এবং আনুষঙ্গিক আচার অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছিল গত ২৫ এপ্রিল থেকেই। প্রথম দিন বাস্তু হোম সম্পন্ন করা হয়। তারপর ২৬, ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নিয়ম মেনে ধুমধামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় কলস যাত্রা এবং মনোজ্ঞ কীর্তনের আয়োজন ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার দিনভর চলবে এই মহাযজ্ঞ। যজ্ঞ শেষ হতে হতে সন্ধে গড়িয়ে যাবে। যজ্ঞ শেষে আজ সন্ধে নাগাদ জগন্নাথ দেবের মূর্তিগুলিকে ফুলে সুসজ্জিত এক বিশেষ শয্যায় শয়ন করানো হবে।

মূল প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে আগামীকাল, ৩০শে এপ্রিল বুধবার সকালে। তিনটি পর্যায়ে এই পবিত্র প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। পুরোহিতরা বিগ্রহকে সোনা, রুপো ও তামার তার দিয়ে বেঁধে সেই তারের অন্য প্রান্ত প্রধান পুরোহিতের কোমরে বাঁধবেন। তারপর ধাপে ধাপে ঘট স্থাপন, কুণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং পরিশেষে প্রতিবিম্ব স্থাপনের মাধ্যমে বিগ্রহে প্রাণ সঞ্চার করা হবে।

এই পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কাঁথি থেকে শুরু করে দিঘা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকবে। প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা অনুষ্ঠান চত্বরকে মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার কড়া নজরদারিতে।

দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরে এই প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজনই নয়, এটি এই অঞ্চলের পর্যটন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এক মহা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হতে চলা এই প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে চলেছে।