দিনের পর দিন ধরে একনাগাড়ে চলছিল…! অনলাইন ব্যবসার আড়ালে জাল সার্টিফিকেটর কারবার, গ্রেফতার ১

জাল সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল একজনকে। এরপর তার দোকানে হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানা পুলিশের অভিযানে বলগোনা বাজারের একটি দোকান থেকে উদ্ধার হল রাশি রাশি জাল স্ট্যাম্প ও জাল সার্টিফিকেট। জানা গিয়েছে, ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার বিনিময়ে ওই দোকান থেকে জাল জন্ম সার্টিফিকেট দেওয়া হত!
পুলিশ সূত্রে খবর, অনলাইন ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই জাল শংসাপত্র তৈরির কাজ চলছিল। ভাতারের বলগোনা বাজারের ওই দোকানে হানা দিয়ে পুলিশ ৫০টিরও বেশি জাল সিল, স্ট্যাম্প এবং বেশ কয়েকটি জাল জন্ম শংসাপত্র উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জাল সিল ও স্ট্যাম্পও রয়েছে। এই জাল সিল ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করা হত বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন স্কুল এবং ব্যাঙ্কের জাল সিল ও স্ট্যাম্পও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্তে নেমে ভাতার থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ভাতারের পাটনা গ্রামের বাসিন্দা শেখ হাসনাত জামানকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন হাসনাতকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় ভাতার থানার পুলিশ। সেই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় এই বিপুল পরিমাণ জাল সিল, স্ট্যাম্প ও জাল শংসাপত্র।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে ভাতার এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম সেখ পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। আনোয়ারা বেগমের দেওয়া বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইস্যু করা একটি জন্ম সার্টিফিকেট জমা দিলে জেলা গোয়েন্দা দফতর সেটি যাচাইয়ের জন্য বর্ধমান মেডিক্যালে পাঠায়। মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ সেই সার্টিফিকেটটিকে জাল বলে চিহ্নিত করে। এরপরই গোয়েন্দা দফতরের পক্ষ থেকে ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভাতার থানার পুলিশ আনোয়ারা বেগম সেখকে প্রথমে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই শেখ হাসনাত জামানের নাম উঠে আসে।
এরপর হাসনাতকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ-সহ বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল এবং ব্যাঙ্কের জাল সিল ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি তৈরি করা জাল শংসাপত্রও।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত শেখ হাসনাত জামানের বলগোনা বাজার এলাকায় একটি অনলাইন ব্যবসার দোকান রয়েছে। মূলত সেই দোকান থেকেই গত ছয় বছর ধরে সে এই জাল শংসাপত্র তৈরির কারবার চালাত। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করছে।