নিজেদের জালে নিজেরাই ফাঁসছে পাকিস্তান! রাষ্ট্রপুঞ্জে সরাসরি পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত যে এর যোগ্য জবাব দেবে, সেই বার্তা স্পষ্ট। এই হামলার ধাক্কা পৌঁছে গিয়েছে ইসলামাবাদেও, যার ইঙ্গিত মিলেছে খোদ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের কথায়। তিনি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ভারতের সম্ভাব্য প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এই আবহে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে, রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে সরাসরি এবং তীব্র আক্রমণ শানাল ভারত। পাকিস্তানেরই এক মন্ত্রীর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রপুঞ্জের ফোরামে তাদের ‘সন্ত্রাস-যোগ’ স্পষ্টভাবে তুলে ধরল দিল্লি।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বিশেষ উদ্যোগ ‘ভিকটিমস অব টেররিজম অ্যাসোসিয়েশন নেটওয়ার্ক’-এর সূচনা হয়। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি যোজনা পটেল পাকিস্তানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “একটি দেশ যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চের অপব্যবহার করছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ একটি সাক্ষাৎকারে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে, গত তিন দশক ধরে তাঁর দেশ জঙ্গিদের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। যদিও এই কাজের জন্য তিনি আমেরিকার দিকে দায় ঠেলে বলেন, “আমেরিকার জন্য তিন দশক ধরে আমরা এই নোংরা কাজ করে চলেছি।”

পাক মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় কূটনীতিক যোজনা পটেল রাষ্ট্রপুঞ্জের সভাতে বলেন, “এই স্বীকারোক্তি শুনে কেউ এতটুকু অবাক হয়নি। এবং এই বক্তব্য থেকেই এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কীভাবে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিরতা তৈরিতে সক্রিয়ভাবে মদত দিয়ে চলেছে। গোটা বিশ্ব আর কতদিন এসব দেখে চোখ বন্ধ করে থাকবে?”

পহেলগাঁও হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়েছেন, যা ভারত স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি বলেন, এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করে না।

সন্ত্রাসবাদের বারবার শিকার হওয়া একটি দেশ হিসেবে ভারত জানে এর ভয়াবহ প্রভাব কতটা সুদূরপ্রারী। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের এবং তাদের পরিবারের উপর সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় প্রতিনিধি ২৬/১১ মুম্বই হামলার ভয়াবহতাও স্মরণ করিয়ে দেন। সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে ফের একবার কোণঠাসা করেছে।