পহেলগাঁও হামলার জের, সুর চড়াল ইসলামাবাদ, তদন্তের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের কড়া পদক্ষেপের মুখে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় ইসলামাবাদ এখন ডিফেন্সিভ মোডে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার একদিকে যেমন দায় অস্বীকার করছে, তেমনই ভারতকে পাল্টা দোষারোপ করার পুরনো খেলায় নেমেছে।
দায় অস্বীকার ও পাল্টা অভিযোগ পাকিস্তানের:
পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসতেই ইসলামাবাদে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি ‘নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের’ দাবি জানিয়েছেন, যদিও তার বক্তব্য, পাকিস্তানের এর সঙ্গে কোনও যুক্ত নেই। তিনি বলেছেন, পহেলগাঁওয়ের ‘দুঃখজনক ঘটনা’ আসলে ভারতের ‘পুরোনো দোষারোপের খেলারই অংশ’। শেহবাজ শরিফ আরও দাবি করেন, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান যেকোনো সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে অংশ নিতে প্রস্তুত। (PTI)
অন্যদিকে, পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে। পাক সংবাদপত্র ডনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তীব্র ভাষায় ভারতকে আক্রমণ করে বলেন, “ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত।” তিনি যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানালেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কেউ যদি পাকিস্তানের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তবে ২৪ কোটি পাকিস্তানি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।” (PTI, ডন রিপোর্ট)
ভারতের কঠোর পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া:
পহেলগাঁও হামলার পর সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মোদী সরকার ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি ‘স্থগিত’ (Suspended) করেছে (যদিও মূল টেক্সটে ‘বাতিল’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার অর্থে ব্যবহৃত হয়)। এছাড়াও ভারত পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করেছে।
ভারতের এই পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা ভারতের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে এবং ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। পাকিস্তান আরও বলেছে, ভারত যদি জল প্রবাহ বন্ধ করে দেয় বা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তবে তারা ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে এর জবাব দেবে। (PTI)
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং LoC পরিস্থিতি:
পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তারা এই ঘটনার তদন্তে সমস্ত দেশকে সহযোগিতা করার এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত ও পাকিস্তান নিজেরাই সমাধানসূত্র খুঁজে বের করবে, তবে তিনি ভারতকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। (PTI)
এদিকে, পহেলগাঁও হামলার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। যদিও কোনও দেশেরই সেনা কোনও হতাহতের বা বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। তবে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। (PTI)