পাকিস্তানকে ভেঙে দিন, কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করুন! মোদীর পাশেই কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শোক এবং ক্ষোভের আবহের মধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে। এবার এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির সুরে সুর মিলিয়ে তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘মাস্ট ভিজিট প্লেস’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত মঙ্গলবার সেই অপূর্ব সুন্দর স্থানটিতে ঘুরতে গিয়েই জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে তেলাঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে একটি বিশাল মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

মোমবাতি মিছিল থেকেই কেন্দ্রের শাসক দলের উদ্দেশে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এক জোরালো বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা এবং ১৪০ কোটি ভারতবাসী এই কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে রয়েছি। পাকিস্তানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে দ্রুত ভারতের সঙ্গে যুক্ত করুন। আমরা সবাই এই উদ্যোগে আপনাদের সম্পূর্ণ সমর্থন করব। এই মুহূর্তে রাজনীতি করার সময় নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা করেছে, যখন দেশের ১৪০ কোটি মানুষ এই ন্যাক্কারজনক আক্রমণে গভীরভাবে বিদ্ধ হয়েছে। এখনই সময় এর কড়া জবাব দেওয়ার। তেলাঙ্গানার ৪ কোটি মানুষ এবং বিশ্বের কমপক্ষে ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করছেন। আর আমরা এই লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিঃশর্ত সমর্থন করব।”

ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৯৬৭ সালে, যখন আমাদের উপর চিন আক্রমণ করেছিল, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দৃঢ়ভাবে জবাব দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তান আক্রমণ করেছিল, তখনও ইন্দিরাজি উপযুক্ত জবাব দিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন। এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে। আমাদের অবশ্যই চূড়ান্ত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। আলোচনার সময় শেষ। উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।”

অন্যদিকে, এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করেছেন। নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমরা সবাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এবং হাজার হাজার ভারতীয়র সঙ্গে আমি পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মোমবাতি মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম।”

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে গত বৃহস্পতিবার বিহার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। ১৪০ কোটি ভারতীয়র ইচ্ছাশক্তি দিয়ে জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দেওয়া হবে। ভারত সন্ত্রাসবাদীদের খুঁজে বের করে প্রত্যেককে শাস্তি দেবে এবং সন্ত্রাসবাদের ইতি টানবে।” তিনি এই কঠিন সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়ানো দেশগুলিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

পহেলগাঁও হামলার পর তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এই ধরনের জোরালো এবং আগ্রাসী বক্তব্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।