OMG! খোলা বাজারে দেদার বিকোচ্ছে সেনার ইউনিফর্ম, উর্দির অপব্যবহার নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় জঙ্গিদের গায়ে পাকিস্তানি সেনা জওয়ানদের মতো পোশাক দেখা যাওয়ার পর থেকেই ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ সংবাদসংস্থা এএনআই-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন খোলা বাজারে এখনও দেদার বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের ইউনিফর্মের মতো দেখতে পোশাক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অতীতের ঘটনাপ্রবাহ এই বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
অতীতেও বেশ কয়েকবার জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে সেনা জওয়ানদের মতো পোশাক পরে হামলা চালিয়েছে। আর সে কারণেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে সেনার পোশাক জঙ্গিদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে? এই সমস্যার মূলে উঠে এসেছে খোলা বাজারে এই ধরনের পোশাকের সহজলভ্যতা।
উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে দেশের অন্যতম সেরা মিলিটারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সহ গাড়োয়াল রাইফেলস এবং কুমায়ুন রেজিমেন্টের সদর দপ্তর অবস্থিত। এই শহরের ডাকরা মার্কেট, পল্টন বাজার, মোতি বাজারের মতো একাধিক বাজারেই প্রকাশ্যে সেনার ইউনিফর্মের মতো দেখতে পোশাক বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে অনেক দোকানেই ক্রেতার পরিচয় যাচাই না করেই দেদার এই পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে।
এই বিষয়টি সামনে আসার পর দেরাদুনের সিনিয়র পুলিশ সুপার অজয় সিং এবং গাড়োয়াল রেঞ্জের ইনস্পেক্টর জেনারেল রাজীব স্বরূপ জানিয়েছেন যে পুলিশ বা সেনাকর্মী ছাড়া এই পোশাক বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয়। এই নিয়ম ভাঙলে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন। অজয় সিং বলেছেন, দেরাদুনে অনেক দোকানেই আর্মির ইউনিফর্ম বিক্রি হয় এবং সম্প্রতি সেখানে একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রত্যেক দোকানদারকে ক্রেতার পরিচয়পত্র যাচাই না করে এবং বিক্রির রেকর্ড না রেখে ইউনিফর্ম বিক্রি না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম না মানলে দোকানদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অতীতে বিক্রির রেকর্ডও যাচাই করা হচ্ছে বলে রাজীব স্বরূপ জানিয়েছেন।
দেরাদুনে সেনার ইউনিফর্ম বিক্রেতা সাগর আহুজা জানিয়েছেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনার পর এখন তারা আধার কার্ড বা সার্ভিস আইডি কার্ড না দেখে কাউকে ইউনিফর্ম বিক্রি করছেন না। এমনকি ফোন নম্বরে কল করেও তার অস্তিত্ব যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৮ নম্বর ধারায় সাধারণ নাগরিকের সেনা পোশাক পরার বিষয়ে শাস্তির বিধান থাকলেও তা যথেষ্ট শিথিল। তারা মত প্রকাশ করেছেন যে এই ধরনের পোশাকের অপব্যবহার রুখতে বর্তমান আইনি ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা প্রয়োজন। খোলা বাজারে সেনার ইউনিফর্মের মতো পোশাকের অবাধ বিক্রি দেশের সুরক্ষার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এই বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।