‘পহেলগাঁওয়ের হামলার খবর আসতেই….’ পহেলগাঁও নিয়ে বিষ্ফোরক কাশ্মীর ভ্রমণ সংস্থাগুলি

কাশ্মীরের অন্যতম জনপ্রিয় এবং মনোরম পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি হলো বৈসরণ উপত্যকা, যা পহেলগাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এবং ‘ভারতের মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত। কিন্তু এই অপূর্ব সুন্দর অঞ্চলটি মূল পহেলগাঁও থেকে ‘বেশ বিচ্ছিন্ন এবং বনজঙ্গল বেষ্টিত’। প্রশ্ন উঠছে, জঙ্গিরা কি এই বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়েই গত ২২ এপ্রিল এই স্থানটিকে হামলার জন্য বেছে নিল?
একাধিক ট্যুর অপারেটরের কথাতেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁদের অনেকের মতে, বৈসরণ উপত্যকা মূল এলাকা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাঁরা সেখানে পর্যটকদের নিয়ে যেতে খুব বেশি আগ্রহী হন না। এমনকি কোনো পর্যটক যদি বৈসরণে যেতে চান, তবে তাঁরা নিরাপত্তা বা বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক সময় তাঁদের বারণও করেন।
‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের হামলার খবর আসতেই ‘লেটস গো ফর এ ক্যাম্প’ নামক সংস্থার মালিক গীতু মোহনদাস ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ তখন তাঁর সংস্থার পাঁচ, আট এবং ছয় সদস্যের তিনটি পর্যটক দল কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তিনি দ্রুত তাঁদের খোঁজখবর নিতে ফোন করেন এবং জানতে পারেন যে তাঁর পর্যটকরা শ্রীনগরে নিরাপদ আছেন।
সংবাদমাধ্যমকে গীতু মোহনদাস তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, “তাদের কাশ্মীর ভ্রমণ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। তারা চার দিনের মধ্যে ফিরে আসবে।” আগামী সপ্তাহেও তাঁর কাশ্মীরে ভ্রমণের আরও কয়েকটি পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো ট্যুর বাতিল করা হয়নি, কিন্তু একটা ভয় কাজ করছে যে হয়তো বাতিল হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বহু পর্যটক এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত ট্যুর প্ল্যান পরিবর্তন করতে চেয়ে ফোন করছেন।
উল্লেখ্য, বৈসরণ যেহেতু কিছুটা বিচ্ছিন্ন এলাকা, তাই নিরাপত্তা বা অন্যান্য সুবিধার কথা ভেবে অনেক ট্যুর অপারেটর সেখানে নিয়ে যাওয়ার বদলে পহেলগাঁওয়ের কাছাকাছি অবস্থিত আরু, বেতাব এবং চন্দন উপত্যকাগুলিতে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য বেশি নিয়ে যান। সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঘটনার পর অবশ্য শুধুমাত্র বৈসরণ নয়, গোটা কাশ্মীর ঘোরা নিয়েই বহু পর্যটক কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছেন। বৈসরণের বিচ্ছিন্নতা এবং সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবই হয়তো জঙ্গিদের হামলার পথ সহজ করে দিয়েছিল বলে মনে করছেন অনেকে।