পহেলগাঁওয়ের হামলার পিছনে হাত রয়েছে হাফিজ সইদের! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালিতে ঘটে যাওয়া নৃশংস জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের সরাসরি মদদ এবং যোগসাজশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যা নির্দেশ করছে যে পাক মদদ এবং পরিকল্পনায় জঙ্গিরা এতটা দুঃসাহস দেখিয়েছে। অতীতে কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপর সেভাবে হাত না পড়লেও, এবার পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদেরই নির্মমভাবে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। জানা যাচ্ছে, এই ভয়াবহ হামলার প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ লস্কর-ই-তৈবার প্রধান এবং মুম্বই হামলার (২৬/১১) মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের হাতেই ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, জম্মু-কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার একটি বিশেষ সন্ত্রাস মডিউল দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। লস্কর-ই-তৈবারই শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স’ (TRF) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, পহেলগাঁও হামলায় যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ছিল পাকিস্তানি জঙ্গি। তাদের সহযোগিতা করেছে স্থানীয় কিছু মিলিট্যান্ট এবং ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার (OGW) হিসেবে কাজ করা কাশ্মীরের বাসিন্দারাই। আর এই পুরো মডিউলের নিয়ন্ত্রণ ছিল সরাসরি লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ এবং তাঁর ডান হাত সইফুল্লার হাতে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, হাফিজ সইদের এই মডিউল কাশ্মীর উপত্যকায় অনেক আগে থেকেই সক্রিয়। এর আগে সোনমার্গ, বুটা পাথরি, গান্দেরওয়াল সহ একাধিক হামলার পিছনেও এই মডিউলেরই হাত ছিল। সোনমার্গের হামলার পর লস্কর-ই-তৈবার এ প্লাস ক্যাটেগরির জঙ্গি জুনেইদ আহমেদ ভাটকে নিকেশ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তার গ্রুপের বাকি সদস্যরা সে সময় পালিয়ে গিয়েছিল।
সাধারণত জঙ্গি হামলার পরই জঙ্গিরা ভূগর্ভে বা ‘আন্ডার গ্রাউন্ডে’ চলে যায়। যতক্ষণ না পাকিস্তানের হ্যান্ডেলারদের থেকে পরবর্তী নির্দেশ আসে, ততক্ষণ তারা ঘন জঙ্গল বা নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকে। জানা গিয়েছে, লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ এবং তাঁর ডান হাত সইফুল্লাই সরাসরি কাশ্মীরের এই মডিউলকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরবর্তী হামলার নির্দেশনা দেয়।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, শুধুমাত্র মগজধোলাই নয়, জঙ্গিদের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে, কৌশলগত দিক থেকে সাহায্য করে এবং কাশ্মীরি যুবকদেরও মগজধোলাই করে জঙ্গি বানিয়ে হামলা চালানোর পেছনে পাকিস্তানি সেনা এবং তাদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়েরও প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। পহেলগাঁওয়ের ঘটনা এই যোগসূত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে এবং হাফিজ সইদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।