‘বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে..,’ কাশ্মীর হামলার প্রতিবাদ করে ধর্ষণের হুমকি পেল যুবতী ! কাঠগড়ায় TMC ছাত্র পরিষদ ও পুলিশ

কাশ্মীরে নিরীহ পর্যটকদের উপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলা নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা দত্ত নামে এক যুবতী সোশ্যাল মিডিয়ায় কাশ্মীরের হামলার প্রতিবাদ করায় তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই হুমকির জন্য তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক সদস্য সহ দুজনকে দায়ী করেছেন। এখানেই শেষ নয়, ভিডিও পোস্ট করার পর পুলিশ এসে তাঁকে সেটি ডিলিট করতে বাধ্য করেছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ওই যুবতী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়াঙ্কার একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে হাউহাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে এবং তিনি তাঁর অভিযোগ বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি জানান, কাশ্মীরের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট করার পর অনেকে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার অনেকে খারাপ মন্তব্যও করেছেন। তবে দু’জনের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ এনেছেন। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, যারা তাঁকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদেরও নাকি গালিগালাজ করা হয়েছে, এবং তাঁকে মেসেজ ও মেসেঞ্জার কলে সরাসরি ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কান্নারত অবস্থায় তিনি বলেন, তাঁকে “মেসেজে এসে ভুলভাল লিখছে, রীতিমতো রেপ থ্রেট দেওয়া হচ্ছে। তোকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাব, এই করে দেব সেই করে দেব…” ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, যারা তাঁকে হুমকি দিচ্ছে, তাদের মধ্যে একজনের দাবি তিনি নাকি বিএসএফ-এর কর্মী, এবং অন্যজন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। প্রিয়াঙ্কা নিজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই সংগঠন কি মেয়েদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া শেখায়? কাশ্মীরে কী ঘটেছে সেটা পরের কথা উল্লেখ করে তিনি কান্নারত অবস্থায় বলেন, এখন তিনি নিজের বাড়িতেও সুরক্ষিত বোধ করছেন না, আতঙ্কে রয়েছেন।
এই ঘটনার পরেই প্রিয়াঙ্কা সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও দুটি পোস্ট করে পুলিশের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর পরিচিতদের ফোন করে ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো, ঘটনার পরদিন রাতে প্রায় রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ থানার ওসি সমেত প্রায় ৭-৮ জন পুলিশ অফিসার নাকি দু’বার তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ভিডিওটি ডিলিট করতে বাধ্য করে এবং ভয় দেখায় যে, তিনি ভিডিও না মুছলে তাঁর বাবা-মার কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে অথবা মিথ্যে অভিযোগে তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে।
যদিও প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন যে তিনি গতকাল রাতেই একটি লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন, তবুও পুলিশ প্রশাসনের উপর থেকে তাঁর ভরসা উঠে গেছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে চাপ সৃষ্টি করে এবং ভয় দেখিয়ে পুলিশ তাঁর মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বা অভিযুক্তদের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।