এসএসসি জট অব্যাহত ! অযোগ্যদের বেতন ফেরত নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা; আদালতে মামলা

স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার জেরে তৈরি হওয়া জটিলতা পশ্চিমবঙ্গে এখনও কাটছেই না। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। একদিকে যখন আদালত কর্তৃক ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত নন এমন চাকরিহারা শিক্ষকদের স্কুলে ফেরার এবং মাস শেষে বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তখন অন্যদিকে যারা ‘অযোগ্য’ চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে সুদ সহ বেতন ফেরত নেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকার এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আপাতত যে সমস্ত শিক্ষকের নিয়োগে কোনো বেআইনি বিষয় চিহ্নিত হয়নি, সেই চাকরিহারা শিক্ষকরা স্কুলে যোগ দিতে পারবেন এবং তাঁদের বকেয়া বেতনও দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ‘যোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত শিক্ষকদের তালিকা ও তাদের বেতনের হিসেব সংশ্লিষ্ট জেলা স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) দফতরে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার শিক্ষা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এসএসসি হিসেব দিয়ে জানিয়েছে চাকরি বাতিল হওয়া মোট ১৭,২০৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৫,৪০৩ জন ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত হননি। আপাতত এই তালিকা থেকেই শিক্ষকদের বেতন চালু করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু আদালতের রায়ে ‘অযোগ্য’ বা নিয়োগে ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিতদের কাছ থেকে বিগত বছরগুলোতে নেওয়া বেতন সুদ সহ ফেরত নেওয়ার যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ছিল, সেই বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশ মেনে চাকরি বাতিল ও বেআইনিভাবে নেওয়া বেতন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকার ও এসএসসি-র কথিত নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবীরা। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উঠলে এসএসসি ও শিক্ষা দফতরের তরফে প্রশ্ন তোলা হয় যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সংক্রান্ত আদালত অবমাননার মামলা হাইকোর্ট শুনতে পারে কিনা।

যদিও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবীরা জোর দিয়ে যুক্তি দেন যে, ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলায় হাইকোর্টের কয়েকটি নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট অপরিবর্তিত রেখেছে, তাই এই আদালত অবমাননার মামলা শোনার অধিকার হাইকোর্টের রয়েছে। শুনানিতে যখন হাইকোর্ট উত্তরপত্র প্রকাশ, চাকরি বাতিল এবং বেতন ফেরানোর নির্দেশ রাজ্য মানছে কিনা জানতে চায়, তখন শিক্ষা দফতর ও এসএসসি-র আইনজীবীরা জানান যে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। গত শুনানিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে মামলকারীদের আইনজীবীদের হাইকোর্টের মামলাটি শোনার অধিকারের স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি পেশ করতে হবে।

সব মিলিয়ে, যোগ্যদের বেতন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, অযোগ্যদের বেতন ফেরত এবং আদালতের নির্দেশ পালনের অন্যান্য দিক নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।