“মানবসভ্যতার বুকে ক্ষত চিহ্ন….”-কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলা নিয়ে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় গত মঙ্গলবারের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানরা। তাঁরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছেন।

এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই হামলাকে ‘মানবসভ্যতার বুকে ক্ষত চিহ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে মুজিব-কন্যা বলেছেন, ‘কাশ্মীরে যে জঙ্গি হামলা ঘটেছে, তা মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার পথে প্রধান বাধা। এটা মানবসভ্যতার বুকে ক্ষত চিহ্ন। জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের সমর্থন বজায় থাকবে। আমরা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছি।’ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পহেলগাঁওয়ে এই বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইজরায়েল সহ একাধিক দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। হামলার তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন এবং সহানুভূতি রয়েছে।’

ঘটনার নিন্দা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইজরায়েল ভারতের পাশে আছে।’ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, তিনি পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় গভীরভাবে শোকাহত। এছাড়াও, সৌদি আরব, ইরান, শ্রীলঙ্কাও জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করে এই কঠিন সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে।

পহেলগাঁওয়ের এই ভয়াবহ জঙ্গি হামলা আবারও প্রমাণ করল যে সন্ত্রাসবাদ একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা এবং এর মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংহতি প্রয়োজন। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই জোরালো নিন্দা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার বার্তা আন্তর্জাতিক স্তরে জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করার ঐক্যেরই প্রতিফলন ঘটায়।