‘আমার চোখের সামনে স্বামীকে মেরেছে, যোগীজি…কঠিন প্রতিশোধ চাই’-শহিদের স্ত্রীর কাতর আর্তনাদ !

কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় নৃশংসভাবে নিহত কানপুরের বাসিন্দা শুভম দ্বিবেদীর মরদেহ তাঁর বাড়িতে পৌঁছানোর পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নববিবাহিত এই সেনা অফিসারের (উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী তিনি সেনা অফিসার বিনয় নারওয়াল; শুভম ছিলেন পর্যটক) অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার এবং কানপুরের মানুষজন। শোকের আবহে শুভমের স্ত্রী ঐশান্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে গিয়ে ন্যায়বিচার এবং এই হামলার কঠোর প্রতিশোধের জন্য আকুতি জানিয়েছেন।
শুভম দ্বিবেদীর শেষযাত্রা যখন কানপুরের ডোঢ়ি ঘাটের দিকে রওনা হচ্ছিল, তখন তাঁর স্ত্রী ঐশান্য নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। স্বামীর স্মৃতি জড়ানো যে শার্টটি তিনি দু’দিন ধরে পরে ছিলেন, শেষযাত্রা শুরুর সময় সেটি খুলে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত সকলের চোখেই তখন জল। শুভমের মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন এবং জ্ঞান ফিরলেই চিৎকার করে বলছিলেন, “জঙ্গিদের যন্ত্রণা দিয়ে মারা হোক।” ঐশান্যও স্বামীর ছবির দিকে তাকিয়ে বারবার হাত বুলিয়ে যাচ্ছিলেন এবং কাঁদছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগীর সামনে পহেলগাঁওয়ের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ঐশান্য বলেন, “আমি আর শুভম ঘোড়ায় চড়ছিলাম, ম্যাগি খেতে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই দুজন জঙ্গি আমাদের সামনে আসে। তারা সরাসরি জিজ্ঞাসা করে – ‘হিন্দু না মুসলিম?’ শুভম ‘হিন্দু’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই ওরা ওর মাথায় গুলি করে। আমি বললাম আমাকেও মেরে ফেল। তখন ওরা বলে – ‘যাও, মোদীকে গিয়ে বলো কীভাবে মেরেছি’।” চোখের জলে ভেসে ঐশান্য যোগী আদিত্যনাথের কাছে আকুতি জানান, “যোগীজি, আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর কঠোরতম প্রতিশোধ চাই, ন্যায়বিচার চাই।”
কানপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শুভমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সান্ত্বনা দেন। তিনি এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির উপর হামলা নয়, বরং সমগ্র ভারতের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই বর্বর হামলার শিকার শুভম দ্বিবেদী, যা সন্ত্রাসবাদের কফিনে শেষ পেরেক হবে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই হামলার জবাব সমগ্র দেশ পাবে, কোনও জঙ্গিকে রেয়াত করা হবে না এবং যারা এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে, তাদেরও শাস্তি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশবাসীকে আস্থা রাখতে হবে যে প্রতিটি বলিদানের হিসাব নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, উত্তরপ্রদেশে তাঁদের ডাবল ইঞ্জিন সরকার এ ধরনের বর্বর ঘটনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে এবং এই ঘটনার পরিণতি সমগ্র দেশ দেখবে।
শুভমের বাবা সঞ্জয় দ্বিবেদী রাগ ও দুঃখের মিশ্রণে বলেন, “দুই পয়সার জঙ্গি আমাদের দেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে চলে গেছে।” তিনি দাবি করেন, সরকারকে এখন কেবল বিবৃতি না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাঁদের ছেলের বলিদানের প্রতিশোধ নিতে হবে। বুধবার রাতে যখন শুভমের মরদেহ বিমানে করে লখনউয়ের আমৌসি বিমানবন্দরে আনা হয়, তখন ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক সেখানে শ্রদ্ধা জানান। শোকে ভেঙে পড়া সঞ্জয় দ্বিবেদী ডেপুটি সিএমকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। পরে মন্ত্রী রাকেশ সচান এবং যোগেন্দ্র উপাধ্যায় শুভমের হাথিপুর গ্রামে পৌঁছে মরদেহ কাঁধে নিয়ে শেষযাত্রায় অংশ নেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা কাশ্মীর হামলার ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে এবং নিহতদের পরিবারের শোক সমগ্র দেশকে স্পর্শ করেছে।