পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের হত্যার প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিলের ডাক তৃণমূল কংগ্রেসের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ মানুষের হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশ শোকে মুহ্যমান। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে মোমবাতি মিছিলের ডাক দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে গতকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেছে বামফ্রন্ট।

পহেলগাঁওয়ের এই সন্ত্রাসী হামলায় যে ২৬ জন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। মর্মান্তিকভাবে নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেরই তিন জন বাসিন্দা রয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিহত তিনজনের মরদেহ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বুধবার রাতেই বিমানে করে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই গোটা পরিস্থিতির তদারকি করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সবরকমভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের বড়সড় ব্যর্থতা বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের প্রশ্ন, পহেলগাঁওয়ের মতো একটি পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে বহু মানুষের সমাগম হয়, সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা কেন এত ঢিলেঢালা ছিল, বিশেষ করে গোয়েন্দা সতর্কতার পরেও?‌ এই ব্যর্থতার প্রতিবাদে এবং পহেলগাঁওয়ের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রতিটি জেলায় দলের কর্মী–সমর্থকরা রাস্তায় নেমে মৌন মোমবাতি মিছিল করছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিল করছেন সিপিএম কর্মীরা। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সকল স্তরের মানুষ সরব হয়েছেন। পহেলগাঁওয়ের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সন্ত্রাস দমনে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।