পাকিস্তানি কূটনীতিককে মাঝরাতে তলব! হাতে ধরানো হল ভারত ছাড়ার নোটিশ

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কঠোর জবাব দেওয়া শুরু করেছে ভারত। একাধিক কড়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বুধবার মাঝরাতেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমেদ ওয়ারিচকে জরুরি তলব করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সেখানেই পাকিস্তান হাইকমিশনের সামরিক উপদেষ্টাদের দ্রুত ভারত ছাড়ার সরকারি নির্দেশনামা তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত, ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ, পাকিস্তানিদের সার্ক ভিসা বাতিল সহ একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার মাঝরাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারিচকে তলব করে বিদেশ মন্ত্রক।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে সাদ আহমেদ ওয়ারিচের হাতে একটি নির্দেশনামা তুলে দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনামায় নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত সে দেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌ উপদেষ্টা এবং বায়ু উপদেষ্টাকে ‘অবাঞ্ছিত’ (Persona non grata) ঘোষণা করার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবার সহ ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানও ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আধিকারিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা সেই বৈঠকে পহেলগাঁও হামলা এবং পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পরই বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, পাকিস্তান যতদিন না বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত থাকবে।
এছাড়াও বিদেশ সচিব আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, অবিলম্বে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত ব্যক্তি বৈধ অনুমোদন নিয়ে ওই সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের আগামী ১ মে-এর মধ্যে এই পথ দিয়ে ভারতে ফিরে আসতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পাকিস্তানের নাগরিকদের সার্ক ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং আগে যে ভিসাগুলি দেওয়া হয়েছিল সেগুলিও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই ভিসার মাধ্যমে বর্তমানে ভারতে থাকা পাক নাগরিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে। এছাড়াও নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনে নিযুক্ত সমস্ত সামরিক উপদেষ্টাদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে। ভারতে থাকা হাইকমিশনের আধিকারিক সংখ্যাও আগামী ১ মে থেকে ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সমস্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাঝরাতে শীর্ষ পাক কূটনীতিক সাদ আহমেদ ওয়ারিচকে তলব করে সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কারের নির্দেশনামা তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হলো। পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যে শুধু কঠোর অবস্থানই নেয়নি, দ্রুত সেই অবস্থানকে কার্যকর করতে শুরু করেছে, মাঝরাতের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ তার স্পষ্ট প্রমাণ। ভারতের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেল।