পহেলগাঁও হামলার জবাব ! পাকিস্তানকে ছয় দফা ধাক্কা ভারতের, বন্ধ পাক সরকারের ‘X’ অ্যাকাউন্ট

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই হামলার পরেই দ্রুততার সঙ্গে একের পর এক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে নয়াদিল্লি। বুধবার রাতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচটি কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার। আর বৃহস্পতিবার সকাল হতেই নেওয়া হলো ষষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি।

পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহতা পর্যালোচনা করতে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭ লোককল্যাণ মার্গের সরকারি বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির (CCS) জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রী সংবাদমাধ্যমকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পাঁচটি পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যত দিন পর্যন্ত পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করবে, তত দিন পর্যন্ত ভারতের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও যে চারটি প্রধান পদক্ষেপের কথা বুধবার রাতে ঘোষণা করা হয়েছিল সেগুলি হলো:

১. আটারি–ওয়াঘা সীমান্তে চলাচল বন্ধ: ওই সীমান্ত পথ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
২. পাকিস্তানিদের ফেরার সময়সীমা: উপযুক্ত নথিপত্র নিয়ে যাঁরা এই সীমান্ত পেরিয়ে সম্প্রতি ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের আগামী ১লা মে–র মধ্যে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে।
৩. সার্ক ভিসা বাতিল ও ফেরত: ‘সার্ক ভিসা অব্যাহতি প্রকল্প’ (SAARC Visa Exemption Scheme – SVES)–এর অধীনে কোনও পাকিস্তানি নাগরিককে আর ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে ওই ভিসা প্রকল্পের অধীনে যে সমস্ত পাকিস্তানি ভারতে আছেন, তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে।
৪. সামরিক কূটনীতিক বহিষ্কার ও হাইকমিশনের কর্মী হ্রাস: দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশনের সামরিক, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ‘অবাঞ্ছিত’ (Persona Non Grata) ঘোষণা করে তাঁদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দু’দেশের হাইকমিশনে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

তবে এখানেই থেমে থাকেনি ভারত। বৃহস্পতিবার সকাল হতে না হতেই নেওয়া হয় ষষ্ঠ এবং প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি। ভারতে পাকিস্তানের সরকারি এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালেই জানা যায়।

এই একগুচ্ছ পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, পহেলগাঁওয়ের মতো হামলার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না এবং সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণাম পাকিস্তানকে ভোগ করতেই হবে।