‘চৌধুরী, বেরিয়ে আয়’, তাঁবু থেকে টেনে পুণের ব্যবসায়ীকে গুলি, দুঃস্বপ্ন দেখছেন মেয়ে

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের নৈসর্গিক বৈসারন উপত্যকা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। পুণের ব্যবসায়ী সন্তোষ জাগদালেকে তাঁর পরিবারের সামনেই গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। প্রাণ বাঁচাতে তাঁবুর ভিতরে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাননি তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পর্যটক। সেই ভয়াবহ দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন সন্তোষের মেয়ে আশাবরী, যিনি সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন।
তরুণী আশাবরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মতো পোশাক পরা কয়েকজন যুবক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে। এরপর চারপাশে কিছু একটা বিপজ্জনক ঘটছে আঁচ করতে পেরে সন্তোষ, তাঁর স্ত্রী প্রগতি এবং মেয়ে আশাবরী দ্রুত একটি তাঁবুর ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন পর্যটকও সেই তাঁবুতে আশ্রয় নেন। তাঁবুর ভেতরে বসেই তাঁরা বাইরে গুলিগোলা বর্ষণের শব্দ শুনতে পান, যা ক্রমশ তাঁদের তাঁবুর দিকে এগিয়ে আসছিল।
এরপরই তাঁবুর বাইরে থেকে জঙ্গিদের কর্কশ গলার হুমকি শোনা যায়। তারা চিত্কার করে বলছিল, ‘চৌধুরি, তুই বাইরে বেরিয়ে আয়।’ এরপর তাঁবু থেকে টেনে বার করা হয় সন্তোষকে। আশাবরী এবং তাঁর মায়ের সামনেই সন্তোষকে গুলি করা হয়। মোট তিন বার গুলি করা হয় তাঁকে – একবার কপালে, একটি কানের পিছনে এবং তৃতীয়টি পিঠে। সেখানেই লুটিয়ে পড়ে তাঁর নিথর দেহ। এরপর জঙ্গিরা সন্তোষের ভাইকেও গুলি করে হত্যা করে।
প্রায় কুড়ি মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং নিরাপত্তাকর্মীরা পৌঁছান। তাঁরা হামলার জায়গা থেকে আশাবরী ও তাঁর মা প্রগতিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। তখনও তাঁরা জানতেন না যে তাঁদের বাবা এবং কাকা দু’জনেই ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে সন্তোষ জাগদালে সহ মহারাষ্ট্রের মোট ছ’জন পর্যটক রয়েছেন। বাকি পাঁচজন হলেন ঠানের বাসিন্দা অতুল মানে, সঞ্জয় লেলে এবং হেমন্ত যোশী। এছাড়াও আছেন পুনের কৌস্তুভ গানবোতে এবং নবি মুম্বাইয়ের দিলীপ দোসলে।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের উপর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ২৬ জন নিহতের মধ্যে দু’জন বিদেশি নাগরিক এবং দু’জন স্থানীয় বাসিন্দাও রয়েছেন। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) ছায়া গোষ্ঠী রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)।