পহেলগাঁও হামলা সরকারের ব্যর্থতা, নোটবন্দি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজ

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হঠাৎ ঘোষণায় বাতিল হয়ে গিয়েছিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার সমস্ত নোট। কালো টাকা এবং সন্ত্রাসবাদের financiación বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘটনার প্রায় ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও, পহেলগাঁওয়ের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা সেই নোটবন্দির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঠিক আট বছর পর উপত্যকায় এমন ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, যার মূল শিকার এবার পর্যটকরা। কাশ্মীরের ইতিহাসে পর্যটকদের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনা শেষ কবে ঘটেছে, তা মনে করা সত্যিই কঠিন। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের এই নৃশংসতা নোটবন্দির সাফল্য নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই আবহেই নোটবন্দি এবং পহেলগাঁও হামলা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্তিক মহারাজ।

TV9 বাংলাকে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে কার্তিক মহারাজ বলেন, “নোটবন্দির সময়ে আরও চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল। নোটবন্দি নিয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ভুল হয়েছে।”

কার্তিক মহারাজের মতে, “যে নকল নোট বাজারে এসেছিল, নোটবন্দি করে হয়তো সেটা কিছুটা মোকাবিলা করা গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও ২০০০ টাকার প্রচুর জাল নোট বাজারে ধরা পড়েছে। কিন্তু পুরোটা বন্ধ করা যায়নি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে যত টাকা বাজারে গিয়েছিল, প্রায় সবটাই ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “এই হামলা ভারত সরকারের ব্যর্থতা।”

নোটবন্দির পর দেশে প্রচুর কালো টাকা উদ্ধার হয়েছে এবং সরকার এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করেছিল। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে কালো টাকার প্রভাবেই দেশে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত চলছিল এবং নোটবন্দির পর তাতে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ এসেছে। কিন্তু পহেলগাঁওয়ের ঘটনা সেই দাবিতে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন লাগিয়ে দিল।

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় মঙ্গলবারের জঙ্গিহানায় অন্তত ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের মতে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৮। সূত্রের খবর, হামলাকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ থেকে ছ’জন।

এই হামলায় বেছে বেছে হিন্দুদের খতম করেছে জঙ্গিরা। কপালে সিঁদুর দেখে, আধার-ভোটার কার্ড দেখে, এমনকি পোশাক খুলে ধর্মের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে হিন্দুদের বেছে বেছে মাথায় গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্ত্রাসবাদীদের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কিন্তু কার্তিক মহারাজের মতে, এই হামলা নোটবন্দি পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করার সরকারি দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।