মধুচন্দ্রিমার আনন্দ মুহূর্তে বিষাদ, জঙ্গি হামলায় শহিদ নৌসেনা লেফটেন্যান্ট, কফিনে ফিরলেন বিনয়

মাত্র ছয় দিনের নতুন জীবন। একটি ভয়ঙ্কর দমকা হাওয়ায় সেই সফরেরই মর্মান্তিক ইতি ঘটল। এক লহমায় বদলে গেল এক নববিবাহিত কনের জীবনের গল্প। মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে চিরদিনের জন্য হারাতে হলো জীবনসঙ্গীকে। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে জঙ্গি হামলায় শহিদ হলেন ভারতীয় নৌসেনার লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল। তাঁর স্ত্রী হিমাংশি তখন তাঁর পাশেই ছিলেন। পাহাড়ি সবুজ ঘেরা উপত্যকায় নতুন করে জীবনকে উপভোগ করা সবে শুরু করেছিলেন তাঁরা, তার মধ্যেই নেমে এল সন্ত্রাসের বজ্রঘাত।

কফিনে ফিরলেন বিনয়

আজ দিল্লিতে যখন তেরঙ্গা-মুড়ে কফিনে করে ফিরলেন বিনয়, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল হিমাংশির পৃথিবী। কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। তবুও তাঁর কাঁপা কণ্ঠে দৃঢ়ভাবে উচ্চারিত হলো, “আমরা ওর জন্য প্রতিদিন গর্ব করব… ও আমাদের গর্ব। ও যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক। ওর জন্যই তো আমরা বেঁচে আছি। আমরা ওকে গর্বিত করব, এটাই কথা।”

লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল, ভারতীয় নৌসেনার এক সাহসী অফিসার, মাত্র ২৬ বছর বয়সে জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হলেন। শুধু একজন স্ত্রী নন, হিমাংশি যেন আজকের ভারতের সাহস ও ভালোবাসার এক মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছেন। চোখের জলে যখন তিনি তাঁর জীবনসঙ্গীর কফিনের পাশে বসে ছিলেন, গোটা দেশ যেন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল তাঁর পাশে।

ভাগ্যে সইল না নতুন জীবন

বিনয়, হরিয়ানার করনালের ছেলে, দেশের সেবার জন্য জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়েছিলেন। সেই শপথ তিনি পালন করলেন জীবন দিয়ে। মাত্র দুই বছর আগে নৌসেনায় কমিশন পেয়েছিলেন। নতুন জীবন, নতুন ঘর বাঁধা তাঁর ভাগ্যে বেশিদিন সইল না। একটি নিঃসঙ্গ কফিনে বন্দি হলো তাঁর নিথর দেহ।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ করনালে পৌঁছাবে। আগামীকাল, হিমাংশি নিজের হাতেই শেষ বিদায় জানাবেন তাঁকে, যাঁর সঙ্গে তাঁর জীবনের নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল মাত্র ছ’দিন আগে।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি ভিডিও কলে শহিদের দাদুর সঙ্গে কথা বলেছেন। বৃদ্ধের কণ্ঠেও ছিল প্রিয় নাতিকে হারানোর হাহাকার। তিনি বলেছেন, “আজ আমার নাতি গেল, কাল কারো ছেলে যাবে। এভাবে চলতে পারে না। জঙ্গিদের এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”

২৬টি প্রাণ নিঃশেষ

শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা দেশ আজ এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ। শুধু একজন নয়, ২৬টি অমূল্য প্রাণ নিঃশেষ হয়েছে সেই হামলায়। যাঁরা কেউ হয়তো ঘুরতে গিয়েছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। সেই সব হাসিমুখ এখন নিথর।

তবুও হিমাংশির দৃঢ় উচ্চারণ— “আমরা ওকে গর্বিত করব।” এই একটি লাইনেই যেন আজকের ভারত দাঁড়িয়ে আছে— হৃদয় ভাঙা, কিন্তু মাথা উঁচু করে।