তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপল ইস্তানবুল, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.২, আতঙ্কিত শহরবাসী

সম্প্রতি মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পর এবার তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্কের ইস্তানবুল শহর। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.২। তুরস্কের ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (AFAD) এই তথ্য জানিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে শহরে কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত বহু মানুষ বহুতল বিল্ডিং ও অফিস থেকে দ্রুত বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বসফরাস প্রণালীর ইউরোপীয় এবং এশীয় উভয় তীরে অবস্থিত এই জনবহুল শহরে ভূমিকম্প তীব্রভাবে অনুভূত হয়। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.২ এবং এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইস্তানবুল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মারমারা সাগরে।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পে কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে তীব্র আতঙ্কের চিত্র। কম্পন শুরু হতেই বহু মানুষ বিল্ডিং ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। আকস্মিক ও তীব্র কম্পনে অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়েও নিরাপদ বোধ করেননি এবং তাদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্ক। যেহেতু ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ইস্তানবুল শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে ছিল, তাই তুরস্কের এই জনবহুল শহরে কম্পন অত্যন্ত জোরালো ছিল, যা মানুষকে ভীত করার জন্য যথেষ্ট। সম্প্রচারমাধ্যম TGRT-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় এক ব্যক্তি আতঙ্কে বহুতলের ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ শহরের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনও বহুতলে প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে তুরস্কের জন্য ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন নয়। দেশটির মানুষের বিভিন্ন সময়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবথেকে বড় বিপর্যয় ঘটেছিল ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তুরস্কের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল কেঁপে ওঠে। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০২৩ সালের এই ভূমিকম্পে তুরস্কের ১১টি প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ সিরিয়াতেও এই ভূমিকম্প মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল, যেখানে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে হাজার হাজার বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল মায়ানমারও। সেই ভূমিকম্পে মায়ানমার যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৭ এবং তার পরেরটি ছিল ৬.৪ মাত্রার। এই দুটি শক্তিশালী কম্পনের পর প্রায় ৩৬টি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছিল।