“ছোটবেলা থেকে অনেক কিছু দেখে আসছি”-মহেশ ভাটের কাণ্ড নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন ছেলে রাহুল ভাট

নব্বইয়ের দশকে ম্যাগাজিনের কভারে মেয়ে পূজা ভাটের সঙ্গে মহেশ ভাটের লিপলক ফটোশুট তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই সময় এই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল ভারতের চলচ্চিত্র জগৎ। বিতর্কের আগুন আরও তীব্র হয় যখন এক সাক্ষাৎকারে মহেশ ভাট মন্তব্য করেন যে তিনি মেয়েকে বিয়ে করতে চান। এই ঘটনা ভাট পরিবারকে দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিল এবং বহু কটাক্ষের শিকার হতে হয় তাঁদের।

সেই সময়ের এই বিতর্কিত ঘটনা মহেশ ভাটের প্রথম পক্ষের ছেলে রাহুল ভাটকেও প্রভাবিত করেছিল। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের কাছে এ প্রসঙ্গে নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির কথা খোলাখুলি শেয়ার করেছেন রাহুল।

রাহুল ভাট বলেন, “যখন এই ঘটনা ঘটে তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৩-১৪ বছর। সত্যি বলতে, এসব আমাদের কাছে খুব বড় কথা ছিল না।” চলচ্চিত্র জগতের ছেলেমেয়েদের জীবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে, তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েরা হয় একেবারে বিগড়ে যায়, নয়তো খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিছু জিনিসকে আমরা গুরুত্ব দিই না, কিছু জিনিস নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমরা জানি সত্য কী।”

পারিবারিক জীবনের নানা ঝড়ঝাপ্টার কথা তুলে ধরে রাহুল আরও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমরা অনেক কিছু দেখে আসছি। হত্যার হুমকি, আয়কর বিভাগের রেইড, অশান্তি—এসব আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে বড় হয়েছি। এসব ঘটনা আমাদের জীবনে কোনও পার্থক্য আনে না, কারণ এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাই আমরা। মানবতা না হারিয়েও, এসব দেখতে আমরা অভ্যস্ত।”

তিনি যোগ করেন, এসব কঠিন অভিজ্ঞতা দেখেও তিনি খারাপ হননি, বরং আরও শক্তিশালী এবং ভালো মানুষ হয়ে উঠেছেন। সেই বিতর্কিত ছবিগুলো ছোটবেলায় দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ছোটবেলায় এই ছবিগুলো দেখেছি। এখন এসব ‘কুল’ বলে মনে করা হয়।” নিজের বর্তমান পরিচিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এখন মানুষ আমায় নিয়ে এমন অনেক কথা বলে, যা আমার ধারে কাছেও মেলে না। অনেকে বলে ওঁর (মহেশ ভাট) কাছে গেলে আমায় মেরে ফেলবে, আমি বলি এটা ভাল যে আমার একটা ইমেজ আছে।”

প্রসঙ্গত, রাহুল ভাট হলেন মহেশ ভাট এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী কিরণ ভাটের একমাত্র ছেলে। রাহুল ‘কেনেডি’, ‘অগ্লি’, ‘ইয়ে মহব্বত হ্যায়’-র মতো কিছু ছবিতে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর সিজন ৪-এ প্রতিযোগী হিসাবেও অংশ নেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পেশায় তিনি একজন ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবেও পরিচিত।