‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে কোটি টাকা প্রতারণা, খিদিরপুর থেকে গ্রেফতার ৩

ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হবে, আর্থিক তছরুপের তদন্তে নাম জড়িয়েছে – এমন সব ভয় দেখিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণার ঘটনা ঘটল দক্ষিণ কলকাতায়। সন্তোষপুরের সার্ভে পার্ক থানা এলাকার এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উৎপল কুমার বিট নামে ওই ব্যক্তির কাছে কিছুদিন আগে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে একজন নিজেকে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে জানায় যে, তিনি নাকি একটি আর্থিক তছরুপের মামলায় জড়িত এবং তাকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। গ্রেফতারি এড়াতে চাইলে তাকে হয় ‘হাউস অ্যারেস্ট’ না হয় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হবে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে বলে দাবি করে প্রতারক।
প্রতারকদের ভয়ঙ্কর হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন উৎপলবাবু। এরপর তাকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়। নির্দেশ মতো তিনি বিপুল পরিমাণ এক কোটি টাকা ওই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন। টাকা পাঠানোর পর যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একটি বড়সড় প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তখনই তিনি স্থানীয় সার্ভে পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের হাতে যায়।
তদন্তে নেমে সাইবার ক্রাইমের গোয়েন্দারা দ্রুত সক্রিয় হন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে খিদিরপুর এলাকা থেকে এই প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মহম্মদ জাহিরউদ্দিন, সুরজিৎ কুমার সিং এবং আমান আক্তার খান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধৃতরা এই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় চক্রের সদস্য।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃতদের জেরা করে এই হাই-প্রোফাইল প্রতারণার জাল আরও কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে এই নতুন ধরনের প্রতারণার কৌশল নাগরিক সুরক্ষা এবং সাইবার সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে।