“আমার স্ত্রী-ও এই মাসে মাইনে পাননি”-SSC জটের মাঝেই বিস্ফোরক দাবি সুকান্ত মজুমদারের

যোগ্য ও অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর অচলাবস্থার জেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন চাকরি হারানো প্রার্থীরা। সোমবারের পর মঙ্গলবারও এসএসসি ভবনের সামনে তাঁদের অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এমনকি নিজের স্ত্রীর বেতন বন্ধ থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
যোগ্য-অযোগ্যের নামের তালিকা প্রকাশের দাবিতে সোমবার এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর দেওয়া সময়সীমা, অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পেরিয়ে গেলেও যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এরপর থেকেই এসএসসি ভবনের সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ, যা মঙ্গলবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে। দফায় দফায় স্লোগান উঠছে। আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে এখনও অবস্থানে অনড়। তাঁদের প্রধান দাবি, ওএমআর শিট এবং যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আন্দোলনকারীদের একাংশ বলছেন, যদি যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা না-ই হয়, তাহলে অযোগ্যদের দ্রুত ছাঁটাই করতে হবে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে বেআইনিভাবে চাকরি হারানো এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকবেন। কিন্তু তারপর কী হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই শুরু থেকেই নতুন করে আর পরীক্ষায় বসতে চাইছেন না আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একদিকে রাজপথে আন্দোলন, আর এক দিকে আইনি লড়াই—চাকরি বাঁচিয়ে রাখতে জোড়া পথেই হাঁটছেন তাঁরা।
এই তরজার মধ্যেই যোগ্য অযোগ্য শিক্ষক নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য সেটা রাজ্য সরকার এখনও ঠিক করতে পারছে না।”
সুকান্ত মজুমদারের আরও অভিযোগ, সরকার শুধু চাকরি হারানো শিক্ষকদেরই নয়, যোগ্য-অযোগ্যের তালিকায় না থেকেও অনেক শিক্ষকের বেতন আটকে রেখেছে। নিজের স্ত্রীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আগে যারা চাকরি পেয়েছে, তাঁদের বেতনও সরকার আটকে রেখেছে। আমার স্ত্রী-ও এই মাসে মাইনে পাননি। সে যোগ্য-অযোগ্য়ের মধ্য়ে পড়ে না।” তিনি আরও যোগ করেন, যে ২৬ হাজার স্কুলে শিক্ষক চাকরি হারিয়েছে, সেই সমস্ত স্কুলেই বেতন হচ্ছে না। “ভাবুন তো কী অবস্থা?”
বিজেপি রাজ্য সভাপতির প্রশ্ন, “যদি এখন এই তালিকায় যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা যায়, তাহলে এতদিন প্রকাশিত হয়নি কেন? আগেই আলাদা করে তালিকা কোর্টে দিয়ে দিলেই এত ঝামেলা হতো না, মাইনে বন্ধ এইসবও হত না।”
সব মিলিয়ে, এসএসসি-র তালিকা প্রকাশ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।