ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন, পার্কে রক্তাক্ত অবস্থায় মিলল যুবককের লাশ, তদন্তে পুলিশ

ভারতের রাজধানী দিল্লি আবারও সাক্ষী থাকল নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। এবার শাহদারা জেলার জগৎপুরী এলাকায় এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পার্কে ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। রাতের অন্ধকারে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে বছর ২০-২২-এর ওই যুবকের লাশ। মৃত যুবকের নাম সজন, তিনি জগৎপুরীরই বাসিন্দা ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদারার ডিসিপি প্রশান্ত গৌতম জানিয়েছেন, রাত ১০টা ৩৯ মিনিট নাগাদ তাঁদের কাছে ফোন আসে যে এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত এবং রাত ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেই সজনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলটি সিল করে দিয়েছে এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এসে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার একদিন আগেই, অর্থাৎ সোমবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির যমুনা বিহার এলাকায় ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে ছুরিকাহত করা হয়েছিল। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট নাগাদ ভজনপুরা থানায় ছুরিকাহত হওয়ার খবর পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ সি-৩, আদিত্য কমপ্লেক্স, যমুনা বিহারে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ১৯ বছর বয়সী কৃষ্ণাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জিটিবি হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যমুনা বিহারের ঘটনায় আক্রান্ত এবং হামলাকারী পরস্পরকে চিনত। এই ঘটনায় ভজনপুরা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১) ধারায় (সম্ভবত আঘাত বা হামলার ধারা, মূল নথিতে উল্লিখিত) মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের জন্য পুলিশি দল কাজ করছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হামলার আসল উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে।

পরপর দু’দিনে রাজধানী দিল্লিতে যুবকদের ওপর ধারালো অস্ত্রের হামলা এবং এক ঘটনায় মৃত্যু দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।