আরও ২ ঘণ্টা কমবে সময়, খুব শীঘ্রই হাওড়া থেকে ছুটবে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ! চলছে প্রস্তুতি

বাংলা খুব শীঘ্রই আরও একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পেতে চলেছে, তবে এবার এক নতুন রূপে। দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনটি হাওড়া থেকে নতুন দিল্লি পর্যন্ত যাত্রা করবে। এই বহু প্রতীক্ষিত ট্রেন চালু করার জন্য ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির খবর অনুযায়ী, হাওড়া এবং নয়া দিল্লির মধ্যে চলাচল করবে এই অত্যাধুনিক স্লিপার ট্রেন। এই লক্ষ্যেই পূর্ব রেল দ্রুত পরিকাঠামোগত উন্নতি করছে। লাইনের দু’পাশে বিশেষ কাঁটাতার লাগানো হচ্ছে, যা দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়ক হবে। জানা গেছে, এই রুটে ট্রেনটি প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে।
দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি BEML এবং ইন্টিগ্রেল কোচ ফ্যাক্টরির দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ট্রেনটির কয়েক দফা ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফল ট্রায়ালের পরেই জল্পনা চলছিল যে এই নতুন ট্রেনটি কোন রুটে চালানো হবে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী, হাওড়া এবং নয়া দিল্লির মধ্যেই দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চলাচল করবে। ঐতিহাসিক ভাবে এই রুটেই দেশের প্রথম রাজধানী এক্সপ্রেসও চালু হয়েছিল।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি এই রুটে দেশের দ্রুততম ট্রেন হতে চলেছে। এটি নয়া দিল্লি থেকে হাওড়া পর্যন্ত ১৪৪৯ কিলোমিটার দূরত্ব ১৫ ঘন্টারও কম সময়ে অতিক্রম করবে, যা বর্তমান দ্রুততম ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসের চেয়ে প্রায় ২ ঘন্টা কম সময় নেবে। রাজধানী এক্সপ্রেসের দিল্লি থেকে হাওড়া পৌঁছাতে প্রায় ১৭ ঘন্টা ৫ মিনিট সময় লাগে।
নয়া দিল্লি এবং হাওড়ার মধ্যে চলাচলকারী এই বন্দে ভারত স্লিপার আপ এবং ডাউন উভয় পথেই একাধিক স্টপেজ দেবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্টপেজগুলি হল প্রয়াগরাজ জংশন, ডিডি উপাধ্যায় জংশন, গয়া জংশন, ধানবাদ জংশন এবং আসানসোল জংশন। ফলে এই স্টেশনগুলি থেকে যাত্রীরা ট্রেনে ওঠা-নামা করতে পারবেন।
সম্ভাব্য সময়সূচী অনুযায়ী, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি নয়া দিল্লি (NDLS) থেকে বিকেল ৫টায় ছেড়ে পরের দিন সকাল ৮টায় হাওড়া জংশনে পৌঁছাতে পারে। একইভাবে, হাওড়া থেকে এটি সন্ধ্যা ৫টায় ছেড়ে পরের দিন সকাল ৮টায় নয়া দিল্লি পৌঁছাবে।
এই স্লিপার ভার্সন ট্রেনটিতে মোট ১৬টি কোচ থাকবে। এর মধ্যে ১১টি হবে এসি থ্রি-টিয়ার, ৪টি এসি টু-টিয়ার এবং একটি ফার্স্ট এসি কোচ। সব মিলিয়ে ১৬টি কোচ নিয়ে দেশের সবচেয়ে আধুনিক এই ট্রেনটি তার যাত্রা শুরু করবে। যদিও এই বিষয়ে রেলের তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জারি করা হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।