“ভুয়ো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বানিয়ে বিক্রির অভিযোগ”-গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়ার

জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে পুলিশের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জাল করে বানিয়ে মোটা টাকায় বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার এই কীর্তি ফাঁস হতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।

ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম মনিরুল ইসলাম। রবিবার মালবাজার থানার অন্তর্গত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মনিরুল ২০১৪ সাল থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত এবং পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।

অভিযোগ উঠেছে যে, মনিরুল নিজের বাড়িতেই একটি সাইবার ক্যাফে চালাত এবং সেখান থেকেই কম্পিউটারের মাধ্যমে ভুয়ো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তৈরি করত। তৈরি করা এই জাল সার্টিফিকেটগুলো সে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করত। শংসাপত্রে আসল আইসির নকল স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করত সে। জানা গেছে, আসল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে যেখানে ২-৩ দিন সময় লাগে, সেখানে মনিরুল একদিনেই তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিত, যার কাছ থেকে যেমন পাওয়া যেত।

এই জালিয়াতি ফাঁস হয় ওদলাবাড়ির বাগরাকোট এলাকার কয়েকজন যুবকের মাধ্যমে। ওই যুবকরা মনিরুলের কাছ থেকে এই ভুয়ো সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে সেটি ডিআইবি অফিসে সংশোধনের জন্য নিয়ে যায়। সেখানে কর্তৃপক্ষ শংসাপত্রগুলো দেখে সন্দেহ করেন। শংসাপত্র যাচাই করতেই ধরা পড়ে সবক’টি নকল। আসল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে থাকা QR কোড এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর কোনওটিতেই ছিল না। এই ধরনের ক্লিয়ারেন্স কোথা থেকে পেল, যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তারা মনিরুলের নাম বলে দেয়। এরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মনিরুলকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রাথমিক জেরায় মনিরুল এখন পর্যন্ত অন্তত ২২টি ভুয়ো সার্টিফিকেট বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে। তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এই সংখ্যাটি ১৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি ভুয়ো পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন চক্রেও তার নাম জড়িয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। ধৃত মনিরুল মাল থানার কুমলাই অঞ্চলের বাসিন্দা। তার স্ত্রী ও সন্তান ছাড়াও একটি চা বাগানও রয়েছে।

মালবাজার থানার পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। তদন্ত চলছে যে, মনিরুল একাই এই জালিয়াতির কাজ করত, নাকি একটি পুরো চক্র এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।